চট্টগ্রাম ব্যুরো: ১১ দলীয় জোটের ক্ষমতায় যাওয়ার বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি অসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ বলেছেন, আমরাই সরকার গঠন করব, আর কেউ পারবে না।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার টানেল মোড়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর সমর্থনে ১১ দলীয় জোটের জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যের পুরোটাই তিনি চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অলি আহমদ জোটের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘সরকার গঠন ইনশল্লাহ আমরাই করব। আর কেউ সরকার গঠন করতে পারবে না। সবাইকে বলে দেবেন- আমরাই সরকার গঠন করব এবং চোরদের এদেশ থেকে বিতাড়িত করব। চোরেরা বাইরে থাকতে পারবে না, ঘরে থাকতে পারবে না, জেলে থাকতে হবে। তাদের ঠিকানা হবে জেলখানা। অনেকদিন খেয়েছে, এবার তাদের টাইম শেষ।’
১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে নারী অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ না করার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ বলছে নারীদের বোরখা পরাবে, আমাদের কী ঠেকা পরেছে তোমাদের আমরা বোরখা পরাব। তোমাদের ইচ্ছে হলে পরবে, ইচ্ছে না হলে পরবে না।’
সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ‘আবার বলে- হিন্দুদের ওপর ইসলামী শাসন জারি করবে। কে বলেছে বেকুবের দল ? লেখাপড়া জানিস না, আমরা কেন হিন্দুদের ওপর ইসলামী শাসন জারি করব ? আমার নবী কি সেটা করতে বলেছেন ? যার যার ধর্ম অনুযায়ী সে চলবে, বিচার করবে আল্লাহ রাব্বুলআলামীন।’
‘সুতরাং যারা ইসলাম ধর্ম পালন করে, তারা কোনো ধর্মের ওপর আঘাত করতে পারে না। আমরা ইসলাম ধর্ম মেনে চলি। সুতরাং আমাদের পক্ষে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কারও ওপর কোনোদিনও আঘাত করা সম্ভব নয় এবং আমরা করব না। ৫ আগস্টের পর আমরা যারা ১১ দলে আছি, আমরাই মন্দির পাহারা দিয়েছি। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানরা নিরাপদ শুধুমাত্র ১১ দলের কাছে, বিএনপির কাছে নয়। যারা নিজের ধর্ম ঠিকমতো পালন করে না, তারা অন্য ধর্ম কীভাবে পালন করবে !’
১১ দলের প্রার্থীদের নির্বাচিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মোদির গোলামদের ভোট দিলে আমি যেজন্য স্বাধীনতা যুদ্ধে গিয়েছিলাম, সেই স্বাধীনতা কি থাকবে ? দেশকে স্বাধীন-সার্বভৌম রাখতে হবে।’
বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন নেতা অলি আহমদ আরও বলেন, ‘আমি বিএনপি ছাড়লাম কেন ? আমি দেখলাম-রোগীটা আর বাঁচবে না। বুড়াবুড়িরা বলে- মরা ছেলে নিয়ে কান্না করে লাভ নেই, কবর দিয়ে ফেল। এখন বিএনপিকে জানাজা পরিয়ে কবর দিয়ে ফেল।’
যোগাযোগ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় দক্ষিণ চট্টগ্রামে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘এই আনোয়ারার মানুষ ল্যাংটা হয়ে হাঁটা ছাড়া কোনোদিন জুতা পরে হাঁটতে পারেনি। পেরেছে কী-না বলেন, হাত তোলেন।’ তখন সমবেতদের পক্ষ থেকে জবাব আসে- না, পারেনি।
তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ চট্টগ্রামে কোনো রাস্তা ছিল না, ইটের রাস্তা। যেটা কক্সবাজারের রাস্তা ছিল, রাস্তার এই পাশে দুই ইট, ওই পাশে দুই ইট, চাকা যেদিকে যেত সেদিকে। পর্যায়ক্রমে প্রত্যেকটি উপজেলায় রাস্তাঘাট করে দিয়েছি। আমরা দেশের জন্য কাজ করেছি। কিন্তু এখন বিএনপির যারা আছে, তারা নিজের জন্য আর নিজের বৌ-ছেলের জন্য ছাড়া আর কারও জন্য কাজ করে না। চট্টগ্রাম বন্দর খেয়ে ফেলার জন্য পাগল হয়ে গেছে। পারলে বৌ বিক্রি করে দেবে, ছেলে বিক্রি করে দেবে, শুধু পয়সা দরকার।’
জনসভায় চট্টগ্রাম-১৩ আসনে (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান চৌধুরী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জুবায়েরুল আলম মানিক বক্তব্য দেন।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামীর শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ইসমাঈল হক্কানীর সভাপতিত্বে আনোয়ারা উপজেলার সেক্রেটারি আবুল হাসান ও কর্ণফুলী উপজেলার সেক্রেটারি নুরউদ্দীন জাহাঙ্গীরের যৌথ সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য দেন- নগর জামায়াতের আমির নজরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য জাফর সাদেক, নেজামে ইসলামীর মহানগরের আমীর জিয়াউল হুসেইন জিয়া, খেলাফত মজলিসের মাহবুবুর রহমান হানিফ, লেবার পার্টির জুনু মিয়া, ছাত্রশিবিরের মুহাম্মদ ইব্রাহিম, আব্দুর রহিম।