Sunday 08 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

কুষ্টিয়া-৪ আসন
পুনরুদ্ধার চায় বিএনপি, সংগঠিত-সক্রিয় অবস্থানে জামায়াত

আল-আমিন খান রাব্বি, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:১৮

কুষ্টিয়া-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমি ও জামায়াতের প্রার্থী আফজাল হোসেন। ছবি কোলাজ: সারাবাংলা

কুষ্টিয়া: বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক জাগরণ— সবক্ষেত্রেই কুষ্টিয়ার অবদান অনন্য। তৎকালীন কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় (বর্তমান মুজিবনগর) ১৯৭১ সালে গঠিত হয় বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার। মুক্তিযুদ্ধে কুষ্টিয়া ছিল দেশের প্রথম মুক্তাঞ্চলগুলোর একটি।

স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ কুষ্টিয়ায় শক্ত ভিত্তি গড়ে তোলে, যদিও বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর দলটি এখানকার রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে। তবে, ২০০৮ সালের পর থেকে আওয়ামী লীগ ফের জেলার সব আসনে প্রভাব বিস্তার করে। কিন্তু ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে মাঠে নেই আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ)। এই পরিস্থিতিতে মাঠ ঘুছিয়ে ফের রাজনীতিতে সরব হয়েছে বিএনপি। সেইসঙ্গে সরব আওয়ামী লীগ আমলে কোণঠাসা হয়ে থাকা জামায়াতে ইসলামীও।

বিজ্ঞাপন

সাংস্কৃতিক রাজধানীখ্যাত কুষ্টিয়া বাউল সম্রাট লালন ফকির, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিলাইদহ, সাহিত্যিক মীর মশাররফ হোসেন, কাঙাল হরিনাথ ও বিপ্লবী বাঘা যতীনের জন্মভূমি হিসেবে দেশজুড়ে পরিচিত। আশির দশকে কুষ্টিয়া ছিল চরমপন্থী রাজনীতির কেন্দ্র। তবে আজও এই জেলা তার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে দেশের সামাজিক-রাজনৈতিক মানচিত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

স্বাধীনতার পর থেকে কুষ্টিয়া-৪ (খোকসা-কুমারখালী) আসনটি মূলত আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দখলেই ঘুরেছে। ১৯৭৩ সালের প্রথম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের গোলাম কিবরিয়া বিজয়ী হলেও পরবর্তী বছরগুলোতে পালাবদল ঘটে দুই দলের মধ্যে।

১৯৭৯ সালে বিএনপির সৈয়দ মাসুদ রুমি, ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগের আবুল হোসেন তরুণ এবং ১৯৮৮ সালে জাসদের নুর আলম জিকু নির্বাচিত হন। ৯০ দশকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পালাক্রমে এই আসনে জয় পায়। সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুর রউফ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সাংসদ সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমি। অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির আফজাল হোসেন। এ ছাড়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আনোয়ার খান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির শহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির তরুণ কুমার ঘোষ ও গণফোরামের আব্দুল হাকিম মিয়া নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সঠিক নেতৃত্ব ও সংগঠনের পুনর্গঠন ঘটাতে পারলে কুষ্টিয়া-৪ (খোকসা–কুমারখালী) আসনে বিএনপি আবারও শক্ত অবস্থানে ফিরতে পারে। তবে বর্তমানে জামায়াতে ইসলামী এ আসনে তুলনামূলকভাবে বেশি সংগঠিত ও সক্রিয় অবস্থানে রয়েছে। বিএনপি যদি নেতৃত্ব সংকট কাটাতে না পারে, তবে আসনটি হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, তারা এমন প্রার্থী চান যিনি দলীয় স্বার্থের বাইরে গিয়ে রাস্তা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে দৃশ্যমান উন্নয়ন ঘটাবেন। কুমারখালীর এক তাঁতশ্রমিক সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমরা রাজনীতির প্রতিশ্রুতি নয়, কাজ ও জীবিকার সুযোগ চাই। যে প্রার্থী সেটা বাস্তবে করবে, তাকেই ভোট দেব।’

বিএনপি’র প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমি সারাবাংলাকে বলেন, ‘দীর্ঘ আন্দোলনের পরে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটেছে। এখন মানুষ চায় উন্নয়ন। আমার তিন মেয়াদে যে উন্নয়ন করেছি সেটি এখনো দৃশ্যমান। দল আমার ওপর আস্থা রেখেছে। আমি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে দেশনায়ক তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে উন্নয়ন ঘটাব।’ তিনি আরও বলেন, ‘হঠাৎ করে উড়ে এসে জুড়ে বসলেই মানুষ তাকে মেনে নেবে না। বিএনপি তৃণমূলের দল, এখানে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্কটাই বড় ব্যাপার।’

অপরদিকে জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী আফজাল হোসাইন সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমরা একটি দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠনের অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করছি। বিশেষ করে কুমারখালী ও খোকসার নদীভাঙন সমস্যার স্থায়ী সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে। মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমরা মাঠে আছি, ভবিষ্যতেও থাকব। এই আসনে অনেক জলাবদ্ধ জমি রয়েছে, সেগুলোকে তিন ফসলি জমিতে রূপান্তর করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি কৃষি কাজে ব্যবহৃত সার, কীটনাশক ও সরঞ্জাম যেন সহজলভ্য হয়, সেদিকেও আমাদের বিশেষ গুরুত্ব থাকবে।’

জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যানুযায়ী, কুমারখালী ও খোকসা দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত কুষ্টিয়া-৪ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ২৪ হাজার ৪০৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৯৮ এবং নারী ভোটার ২ লাখ ১০ হাজার ৯০৫জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ছয়জন। এখানে দুই উপজেলায় রয়েছে দু’টি পৌরসভা ও ২০টি ইউনিয়ন পরিষদ।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর