Sunday 08 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

নাহিদ ইসলামকে মন্ত্রী করার ঘোষণা জামায়াত আমিরের

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:৪০ | আপডেট: ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:৩০

নাহিদ ইসলামের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

ঢাকা: জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ইনসাফের বাংলাদেশে জনগণের রায় এবং আল্লাহর মেহেরবানিতে যদি বিজয় অর্জিত হয়, সেই সরকারে নাহিদ ইসলামকে অবশ্যই আপনারা একজন মন্ত্রী হিসেবে দেখতে পাবেন।

তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি বারবার ফিরে আসবে না। ৫ আগস্টের অসম্পূর্ণ কাজ সম্পুর্ণ হবে ১২ তারিখ। জনগণ সেদিন দুর্নীতিবাজ-চাঁদাবাজ-ঋণখেলাপীদের লালকার্ড দেখাবে।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্ট খেলার মাঠে ঢাকা-১১ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মো. নাহিদ ইসলামের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এ আসনে দুইজন প্রার্থী আছেন। দুইজনকেই আপনারা চেনেন। নাহিদ ইসলামের জন্ম এখানে, বেড়ে ওঠা এখানে। আমি মায়ের কাছে মাসির গল্প শোনাতে চাই না। আমার থেকে নাহিদকে আপনারা ভালো চেনেন। এটা বলতে চাই, ইনসাফের বাংলাদেশে জনগণের রায় এবং আল্লাহর মেহেরবানিতে যদি বিজয় অর্জিত হয়, সেই সরকারে নাহিদ ইসলামকে অবশ্যই আপনারা একজন মন্ত্রী হিসেবে দেখতে পাবেন। আমরা হাতে হাতে ধরে কাজ করব।’

বিজ্ঞাপন

জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা যারা ১৫ বছর আওয়ামী জাহেলিয়াতের যাতাকলে পিষ্ট ছিলাম, এর মধ্যে একটা অংশ মজলুম থেকে জালেম হয়ে উঠেছে। যে সকল অপকর্ম আওয়ামী লীগ করত, তারাও ৬ তারিখ সকাল থেকে সেসব অপকর্ম শুরু করেছে। আগস্টের ৬ তারিখ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত যারা অপকর্ম শুরু করেছিল, তারা আর বন্ধ করে নি। আমরা তো এ জন্য লড়াই করিনি, রক্ত দেইনি। আমাদের সন্তানদের দাবি ছিল, উই ওয়ান্ট জাস্টিস।’

আবরার ফাহাদ ও শরিফ ওসমান হাদির প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, ‘আবরার ফাহাদ, হাদী তোমাদের কাছে আমরা ঋণী। আমরা সুযোগ পেলে, তোমরা যেমন বাংলাদেশ চেয়েছিলে, তেমনি উদ্বীপ্ত বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলব।’ তিনি বলেন, ‘এই জাতির ভাগ্য বদলের জন্য ৫টি বছর যথেষ্ট। আমরা কোন ভুল আশ্বাস দিব না। যা বলব তা জানপ্রাণ দিয়ে পালন করার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ। আমরা ৫৬ হাজার বর্গমাইলের প্রতি ইঞ্চি মাটির পাহারাদার হব ইনশাআল্লাহ।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন কেউ ঠেকাতে পারবে না। এ দেশের মানুষ মেধাবী এবং পরিশ্রমী। অতীতের নেতৃত্বের মধ্যে সততার অভাব ছিল। তাদের মধ্যে দুর্নীতি থেকে হাতকে মুক্ত রাখার সেই শপথ ছিল না, দেশের প্রতি দায় ছিল না। এজন্যই বাংলাদেশ আগাতে পারেনি। আমরা আশা করব, যুবকরা আমাদেরকে হতাশ করবে না। তারা আমাদেরকে সামনে নিয়ে এগিয়ে যাবে।

সারাদেশ এখন জেগে উঠেছে মন্তব্য করে জামায়াত আমির বলেন, ‘বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলের প্রতি ইঞ্চি মানুষ আর ১৮ কোটি মানুষের প্রত্যেকের হকের ওপরে আমরা পাহারাদারি করব। কারও সঙ্গে আমরা বেইমানি করব না। আমরা মিথ্যাবাদী জাতি নই, কিন্তু একটা কথা আল্লাহতালাকে সাক্ষী রেখে বলব— বাংলাদেশের মানুষের জীবন, সম্পদ এবং ইজ্জত— এই তিনটার পাহারাদার হব আমরা। এ দেশের মালিক হব না, জনগণের সেবক হব।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা এমন কোনো আশ্বাস দেব না, যা বাস্তবায়ন করতে পারব না। যা বলবো ইনশাআল্লাহ আল্লাহর ওপর ভরসা করে সেটাই করার চেষ্টা করব জানপ্রাণ দিয়ে। যেভাবে জুলাই এনে দিয়েছে আমাদের সহযোগীরা জানপ্রাণ দিয়ে, সেইভাবে আগামীর দায়িত্ব আমরা পালন করব জান দিয়ে।

তিনি বলেন, ‘আসুন, একটা বেইনসাফি মুক্ত, জুলুমবাজ মুক্ত, চাঁদাবাজ মুক্ত, দখলবাজ মুক্ত, মামলাবাজ মুক্ত, আধিপত্যবাদ মুক্ত একটা ন্যায়-ইনসাফের মানবিক বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমরা হাতে হাত কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাই। আল্লাহ আমাদেরকে তৌফিক দান করুন।’

ঢাকা-১১ আসনের ১১দলীয় জোটের প্রার্থী নাহিদ ইসলামের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, ঢাকা-১১ আসনে প্রাথমিকভাবে জামায়াতের প্রার্থী (যিনি পরে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন) আতিকুর রহমান প্রমুখ।

সারাবাংলা/এমএমএইচ/ইআ
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর