ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ( সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগর আংশিক) আসনের জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সাংসদ জিয়াউল হক মৃধা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এক বিবৃতির মাধ্যমে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তবে তিনি অন্য কোনো প্রার্থীকে সমর্থন জানাননি।
বিবৃতিতে সাবেক সাংসদ জিয়াউল হক মৃধা বলেন, আমি এড.মো. জিয়াউল হক মৃধা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২৪৪ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল- আশুগঞ্জ-বিজয়নগর আংশিক) নির্বাচনি এলাকার জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের সংসদ সদস্য প্রার্থী। ইতোমধ্যে আপনারা অবগত হয়েছেন, গত ৫ আগস্ট ২০২৪ পরবর্তী সময়ে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য ও প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে আমাকে তিনটি মামলায় আসামি করে নিজ এলাকা থেকে বিতাড়িত করা হয়। যদিও ওই সব মামলার ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। এমনকি মামলায় উল্লিখিত সময়ে আমি সংসদ সদস্য পদেও অধিষ্ঠিত ছিলাম না।
তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাকে আমার দল জাতীয় পার্টি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিলে, আমার আইনী বাধ্যবাধকতার কারণে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করা সম্ভব হয়নি। আমার পক্ষে জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। আমার প্রার্থীতা বৈধ ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিক নির্বাচনি প্রচার শুরু হলে আমাকে ও আমার নেতাকর্মীদেরকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিভিন্ন মহল থেকে ভয়-ভীতি ও গ্রেফতারের হুমকি প্রদর্শন শুরু করে যা অদ্যাবধি চলমান। যার ফলে আমি অন্যান্য প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীদের মতো সম্পূর্ণ স্বাধীন ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনি প্রচার চালাতে পারছি না। এমন প্রতিকূল পরিবেশে আমি আমার দলের সকল নেতাকর্মীর সিদ্ধান্তক্রমে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর মত কঠিন সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি।
তিনি সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, আমার আবেগপ্রবণ ভোটার, সাংবাদিক, শুভাকাঙ্ক্ষী,আত্মীয়-স্বজন ও নেতা-কর্মীদের আমার পাশে থাকার পরিস্থিতির জন্যে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং এই অনাকাঙ্খিত জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আমার নির্বাচনি এলাকার সকলের নিরাপত্তা, সুস্বাস্থ্য ও শান্তি কামনা করছি। সকলের নিকট আমার জন্য দোয়া ও আশীর্বাদ প্রার্থনা করছি।”
প্রসঙ্গত, জাতীয় পার্টির এ নেতা ২০০৮ ও ২০১৪ সালে টানা দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন জিয়াউল হক মৃধা।