Sunday 08 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বেইনসাফি ও দুর্নীতিগ্রস্ত কাঠামো ফেরাতে পূর্ণ শক্তিতে মাঠে সুবিধাভোগীরা: নাহিদ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:০০

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম

ঢাকা: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে জুলাই বিপ্লব ছিল একটি গণবিদ্রোহ, যার লক্ষ্য ছিল পুরোনো বন্দোবস্ত ভেঙে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু পুরোনো ব্যবস্থার সুবিধাভোগীরা আবারও পূর্বের দুর্নীতিগ্রস্ত ও বেইনসাফি বৈষম্যমূলক কাঠামো ফিরিয়ে আনতে পূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি নিয়ে নির্বাচনের মাঠে নেমে পড়েছে।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া নির্বাচনি ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে গত ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, শেখ হাসিনা রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে; বিশেষ করে পুলিশ, প্রশাসন এবং বিচার বিভাগকে ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করেছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর এসব প্রতিষ্ঠান ভেঙে পড়লেও এখনো প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ফ্যাসিবাদের দোসররা লুকিয়ে থেকে অন্তর্ঘাত চালাচ্ছে এবং বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে।

বিজ্ঞাপন

দেশের অর্থনৈতিক বিপর্যয় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিগত শাসনামলে প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এই অর্থ পুনরুদ্ধারে ব্যর্থ হয়েছে। এনসিপি ক্ষমতায় আসলে পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনবে এবং চিহ্নিত লুটেরাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে ‘পাবলিক ট্রাস্ট’ গঠন করবে। কোনো অপরাধীকেই দায়মুক্তি দেওয়া হবে না।

পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে নাহিদ ইসলাম ভারতের ওপর ‘অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা’ কাটিয়ে ওঠার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, বিগত সরকারের নীতি ছিল দিল্লির নির্দেশ পালন করা, যার ফলে বিএসএফ সীমান্তে বাংলাদেশি মারলেও সরকার নিশ্চুপ থাকত।

তিনি সার্ক পুনরুজ্জীবিত করা এবং মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে একটি সার্বভৌম ও আত্মমর্যাদাপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন।

প্রতিরক্ষা খাতে বড় ধরনের সংস্কারের পরিকল্পনা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, শুধু সংখ্যা বাড়িয়ে নয়, বরং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বাহিনীকে শক্তিশালী করা হবে। এ ছাড়া ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে সকল সক্ষম নাগরিকের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ চালুর প্রস্তাব দেন তিনি, যাতে একটি জনভিত্তি সম্পন্ন জাতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।

এ সময় তিনি দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সিন্ডিকেট ভাঙা এবং পুলিশ বাহিনীকে জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সারাবাংলা/এফএন/এইচআই
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর