Monday 09 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বিএনপি প্রয়োজন মনে করলে ‘কোয়ালিশন সরকার’— বললেন আমীর খসরু

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:০৭ | আপডেট: ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:৪১

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

চট্টগ্রাম ব্যুরো: জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হলে জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে ‘কোয়ালিশন সরকার’ গঠনের সম্ভাবনা নেই বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে প্রয়োজন মনে করলে বিএনপি ভাববে, এমন কথাও জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর মেহেদীবাগের বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা জানান।

জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করলে সেই সরকারে বিএনপি যাবে কি-না বা বিএনপি সরকার গঠন করলে জামায়াতসহ ছোট দলগুলোকে নেবে কি-না, সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, বিএনপি যদি প্রয়োজন মনে করে, তাহলে কোয়ালিশন সরকার গঠনের বিষয়ে সময় এলে সিদ্ধান্ত নেবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘সরকার গঠনের প্রক্রিয়াটা কি? প্রথমে দর্শনগত মিল থাকতে হবে, দ্বিতীয়ত আগামীর কর্মসূচির সঙ্গে একমত হতে হবে। বিএনপির একটা দর্শন আছে। এটা রাজনৈতিক দল তো। আমাদের একটা রাজনৈতিক দর্শন আছে। এরপর আমরা ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি দিয়েছি ৪২ পার্টি মিলে। এদের মধ্যে আবার অনেকের সঙ্গে জোটও হয়েছে। আমাকে তো ৩১ দফা বাস্তবায়ন করতে হবে, আমি জনগণের কাছে এটার জন্য দায়বদ্ধ।’

‘বাংলাদেশকে নিয়ে আমাদের আগামীদিনের পরিকল্পনা আছে। তারেক রহমান সাহেব বলেছেন- আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান। সুতরাং আমাদের বাংলাদেশ নিয়ে একটা প্ল্যান আছে। তারেক রহমান সাহেব ম্যানিফেস্টো দেওয়ার সময় সেটা সীমিতভাবে তুলে ধরেছেন। আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের কিছু চিন্তা আছে, এই রিজিয়ন নিয়ে আমাদের কিছু চিন্তা আছে।’

জবাবে খসরু আরও বলেন, ‘এই দর্শন, এই ভাবনা, এই রূপরেখা যা আমরা করেছি, এর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ যারা থাকবে এবং বিএনপি যদি মনে করে যে কারও সঙ্গে কোয়ালিশন করা দরকার, সেটা সময় আসলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সেটা তা-ও হবে কি-না আমি বলতে পারব না। যদি সঙ্গতিপূর্ণ হয়, তারপর দল এ ব্যাপারে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।’

একটি দল বিভিন্ন ধরনের কথা বলে জনগণের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে মনে করেন বিএনপির অন্যতম নীতিনির্ধারক আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, ‘পত্রপত্রিকা ও সামাজিক মাধ্যমে নানা বিষয় উঠে আসছে। তারা ব্যালট ছাপাচ্ছে, বোরকা বানাচ্ছে, এনআইডি কার্ড (জাতীয় পরিচয়পত্র) নিয়ে যাচ্ছে, বিকাশে টাকা পাঠানোর জন্য মোবাইল নম্বর নিচ্ছে। এসব করে তারা যে কিছু করতে পারবে তা নয়, কারণ জনগণ এসবে বিভ্রান্ত হবে না। এসব বিষয় মাথায় রেখে সাবধান হতে হবে।’

নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অনেকেইতো নির্বাচন চায়নি, নির্বাচনের প্রতি তাদের আস্থা নেই। আবার নির্বাচনে গিয়ে বিভিন্ন কথা শুনতে পাচ্ছি। এগুলোতো ভালো লক্ষণ না। তবে বাংলাদেশের জনগণ খুবই সজাগ। তারা ১২ তারিখ ভোটকেন্দ্রে যাবে, ভোট প্রয়োগ করবে। ব্যালটের মাধ্যমে জনগণ জবাব দেবে। যারা এসবের মাধ্যমে পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী, মুক্তিকামী মানুষ তাদের কোনোদিন গ্রহণ করবে না বলে আমি বিশ্বাস করি।’

বিএনপির পক্ষে ভোটের উৎসব দেখতে পাচ্ছেন জানিয়ে আমীর খসরু বলেন, ‘ভবিষ্যতে বাংলাদেশ গড়তে অতীতের মতো নাগরিকেরা বিএনপিকে বিজয়ী করবে।’

চট্টগ্রাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় এলে চট্টগ্রামকে শুধু বাণিজ্যিক রাজধানী নয়, চট্টগ্রাম বন্দরকে লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যা দক্ষিণ এশিয়ার অনেকে ব্যবহার করতে পারবেন। যে রকম এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন হয়েছে চট্টগ্রামে, যা আমাদের আশপাশের দেশের কোথাও হয়নি।’

সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে বিএনপির প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ওই আসনের জন্য ১১ দফা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন। প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে আছে, বন্দর-পতেঙ্গা এলাকায় ১ হাজার ২০০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ, বেকার তরুণদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং প্রশিক্ষণ, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি বাস্তবায়ন, পানীয় জলের ব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা নিরসনে আধুনিক ড্রেনেজ ও পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা করা, দীর্ঘমেয়াদি যানজট নিরসন পরিকল্পনা, ইপিজেড ও শিল্পাঞ্চলের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, রাস্তাঘাটের বেহাল দশা দূর করে টেকসই সড়কব্যবস্থা গড়ে তোলা, চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার জট নিরসনে আধুনিক ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট দফতরের মাধ্যমে বাণিজ্য ও অর্থনীতি গতিশীল করা, নাগরিক সেবায় বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয়হীনতা দূর করে একীভূত ও ডিজিটাল সেবা ব্যবস্থা চালু ও পরিকল্পিত, আধুনিক ও অগ্রগামী নগর হিসেবে গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি নগর-পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা।

এ সময় চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম, দলটির আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপকমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু, নগর কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল আলম, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম চট্টগ্রামের সদস্য সচিব কামরুল ইসলাম সাজ্জাদ উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

পুঁজিবাজারে সূচকের বড় উত্থান
৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:৩২

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদের কবিতা
৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:২৮

আরো

সম্পর্কিত খবর