ঢাকা: ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের ভেতর মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে ‘স্বৈরতান্ত্রিক ও অগণতান্ত্রিক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। তিনি এই সিদ্ধান্তকে ২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের ধাঁচের পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাত শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।
এ সময় ডাকসু ভিপি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে কোনো মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যাবে না। এটি একটি উৎসবমুখর নির্বাচনের আমেজ নষ্ট করার অপপ্রয়াস। গত ১৬ বছরে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম ভোট দিতে পারেনি। এখন যখন সারা দেশে একটি নির্বাচনি উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে, তখন এই ধরনের বিধিনিষেধ মূলত কারচুপির নির্বাচনের সুযোগ তৈরি করে কি না, সেই প্রশ্ন তুলছে।’
সাক্ষাতকালে ডাকসুর পক্ষ থেকে উত্থাপিত মূল দাবিগুলো হলো-
- মোবাইল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: সাধারণ ভোটারদের সুবিধার্থে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ৪০০ গজের ভেতর মোবাইল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত বাতিল করা।
- বিএনসিসি নিয়োগ: ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তার জন্য আনসারের পাশাপাশি সুসংগঠিত ও সুপ্রশিক্ষিত বিএনসিসি সদস্যদের দায়িত্ব প্রদান।
- লেভেল প্লেইং ফিল্ড: সকল রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং প্রার্থীদের ওপর (বিশেষ করে নারী প্রার্থীদের) হামলা ও হুমকি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।
ভিপি সাদিক কায়েম জানান, ছাত্রসমাজের উদ্বেগের মুখে নির্বাচন কমিশন ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘কমিশন আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, মোবাইল ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তটি তারা বাতিল করবেন এবং খুব দ্রুতই এ বিষয়ে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।’
এ সময় জুলাই বিপ্লবের চেতনা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা জুলাই প্রজন্ম সজাগ আছি। বাংলাদেশের চার কোটি তরুণ ভোটার আর কোনো অগণতান্ত্রিক বা কারচুপির নির্বাচন হতে দেবে না। নির্বাচনে যেই জয়ী হোক, জামায়াতে ইসলামী কিংবা বিএনপি, আমরা চাই দিনশেষে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জয় হোক।’
তিনি আরও সতর্ক করেন যে, ‘কোনো গোষ্ঠী যদি পেছন দরজা দিয়ে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করে বা নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করে, তবে তারা নিজেদেরই ক্ষতি করবে।