Monday 09 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সংসদ নির্বাচন ও গণভোট
শেষ সময়ের প্রচারে উৎসবমুখর বন্দরনগরী

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:২৯ | আপডেট: ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:৫০

শেষ সময়ের প্রচারে উৎসবমুখর বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। ছবি কোলাজ: সারাবাংলা

চট্টগ্রাম ব্যুরো: মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় শেষ হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচার। শেষদিনে আজ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের মিছিল, জনসভা, পথসভা, গণসংযোগে বন্দরনগরী অনেকটা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনের শেষমুহূর্তে এসে চট্টগ্রামবাসী ভোটের আমেজ পেয়েছে, এমনটাই মনে করছেন সাধারণ ভোটারেরা।

প্রচারের শেষদিনে আজ (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, সিপিবি-বাসদসহ বামপন্থী বিভিন্ন দল, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামিক ফ্রন্টসহ প্রতিদ্বন্দ্বী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা মাঠে নেমে পড়েন। প্রার্থীদের কেউ কেউ বিপুল পরিমাণ ভোটার অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে হেঁটে, হেঁটে ভোট চেয়েছেন। আবার মিছিলেও নেতৃত্ব দিয়েছেন। কয়েকজন প্রার্থী জনসভা করেছেন। আবার কয়েকজন এলাকার জন্য ইশতেহার আকারে নিজের প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করেছেন। জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির প্রার্থীরা নিজেদের প্রতীকের পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে একযোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), জাতীয় পার্টি, এলডিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, সুপ্রিম পার্টি, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, গণসংহতি আন্দোলন, নাগরিক ঐক্য, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাসদ-মার্কসবাদী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল–জেএসডি, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দলের এবং স্বতন্ত্র মিলে ১১৫ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন।

প্রচারের শেষদিনে আজ সকালে চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনের বিএনপির প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংবাদ সম্মেলন করে ১১ দফা নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন। বিকেলে তিনি নগরীর লালদিঘী মাঠে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনের প্রার্থী আবু সুফিয়ানের নির্বাচনি জনসভায় যোগ দেন। জনসভা শেষে নিজ নির্বাচনি এলাকায় গিয়ে গণসংযোগ ও মিছিলে নেতৃত্ব দেন। এ ছাড়া, আমীর খসরুর ছেলে বিএনপি নেতা ইসরাফিল খসরুও বাবার পক্ষে ভোট চেয়ে দিনভর মিছিল-গণসংযোগ করেছেন।

লালদিঘী মাঠের জনসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী নেতাকর্মীদের ভোট কারচুপি ঠেকাতে ভোটকেন্দ্র পাহারায় জাগ্রত সৈনিকের ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

চট্টগ্রাম-৯ আসনের বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ান সকালে বাকলিয়ায় গণসংযোগ করেন। বিকেলে জনসভার পর তিনি কোতোয়ালি এলাকায় গণসংযোগে নামেন। বিকেলে ওই আসনের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি মিছিল দেখা যায় আবু সুফিয়ানের সমর্থনে।

চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-হালিশহর, খুলশী) আসনের বিএনপির প্রার্থী সাঈদ আল নোমানও নিজ এলাকায় মিছিল-সমাবেশ করেছেন। শেষমুহূর্তের প্রচারে সাঈদের সঙ্গে নেতাকর্মী, সমর্থকদের ঢল নামে। এ সময় বিভিন্ন পথসভায় তিনিও ভোট কারচুপি ঠেকাতে বিএনপি নেতাকর্মীদের আজ (সোমবার) থেকে মাঠে সতর্ক অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।

১১ দল সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে চট্টগ্রাম-১০ আসনের শামসুজ্জামান হেলালী নগরীর হালিশহরে মহিলা মিছিল বের করে রীতিমতো তাক লাগিয়ে দেন। হাজারখানেক মহিলা এই মিছিলে অংশ নেয়। এ সময় তারা হেলালীর পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে হেলালী তার নির্বাচনি এলাকার জন্য ২৬ দফা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন।

চট্টগ্রাম-৯ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ডা. এ কে এম ফজলুল হক আজ সকালে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতাল মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচনি ইশতেহার তুলে ধরেন। এতে তিনি মানবিক, আধুনিক এলাকা গড়ে তোলার ঘোষণা দেন। চট্টগ্রাম-১১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ শফিউল আলমের সমর্থনে নগরীর উত্তর নালাপাড়া থেকে গণমিছিল বের হয়। চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী ও নগরীর একাংশ) আসনে ১১ দল সমর্থিত এনসিপির প্রার্থী জোবাইরুল ইসলাম আরিফ দিনভর নগরীর চান্দগাঁও ও বোয়ালখালী এলাকায় পথসভা ও গণসংযোগ করেন।

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ স্টেশন থেকে বিকেলে গণমিছিল বের করেন। এতে কয়েক হাজার মানুষ উপস্থিত ছিল। অন্যদিকে একই আসনে বিএনপির প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন দিনভর সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভা করে বিকেলে মিছিল বের করেন।

সিপিবির প্রার্থীদের মধ্যে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড ও নগরীর একাংশ) আসনে মছিউদ্দৌলা ও চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে প্রমোদ বড়ুয়া দিনভর বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেছেন। বাসদ-মার্কসবাদী থেকে তিন প্রার্থী চট্টগ্রাম-৯ আসনে শফি উদ্দিন কবির আবিদ, চট্টগ্রাম-১০ আসনে আসমা আক্তার ও চট্টগ্রাম-১১ আসনে দীপা মজুমদার দিনভর গণসংযোগ ও পথসভা করেছেন। বামপন্থী প্রার্থীরা ধনী, পুঁজিপতিদের কাছে জিম্মি হয়ে থাকা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে গরিব-মেহনতি মানুষের কাছে ফিরিয়ে নিতে সিপিবির কাস্তে এবং বাসদ-মার্কসবাদীর কাঁচি মার্কায় ভোট প্রার্থনা করেন।

চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর সমর্থনে এদিন বিকেলে নগরীর উত্তর কাট্টলী এলাকায় গণমিছিল বের হয়। বাদ্যবাজনা বাজিয়ে হাতে ধানের শীষ নিয়ে রীতিমতো উৎসবের আমেজ তৈরি করে বিএনপির নেতাকর্মী, সমর্থকরা এলাকায় শোডাউন দেন।

বৃহত্তর সুন্নি জোটের প্রার্থীদের মধ্যে চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে ইসলামী ফ্রন্টের ইলিয়াছ নুরী, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে ইকবাল হাসান, চট্টগ্রাম-৮ আসনে হাসান আযহারী, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে এস এম শাহজাহান, চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে সোলায়মান ফারুকী এবং চট্টগ্রাম-৯ আসনে ইসলামিক ফ্রন্টের মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ শেষদিনে মিছিলের মাধ্যমে নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায় শোডাউন করেছেন।

চট্টগ্রাম-৭ আসনের বিএনপির প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরী আজ বিকেলে রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে নির্বাচনি সমাবেশ করেন।

এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগরীতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিভিন্ন যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নগর পুলিশ।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজের সই করা এ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত মহানগরীর নির্বাচনি এলাকায় ট্যাক্সি ক্যাব-কার, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে। একইসঙ্গে ১০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ থাকবে।

তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন ও অনুমতিপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষকদের যানবাহন চলাচল করতে পারবে। জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন, ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী বহনকারী যানবাহন এবং সংবাদপত্র পরিবহণে ব্যবহৃত যানবাহনও নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। বিমানবন্দরে যাওয়া–আসার ক্ষেত্রে টিকিট বা সমজাতীয় প্রমাণ প্রদর্শন সাপেক্ষে যানবাহন চলাচল করা যাবে।

দূরপাল্লার যাত্রী বহনকারী যানবাহন এবং আন্তঃজেলা যাতায়াতের ক্ষেত্রেও শিথিলতা থাকবে। রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমোদন ও স্টিকার প্রদর্শন সাপেক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী একটি এবং তার নির্বাচনি এজেন্ট একটি ছোট আকারের যানবাহন ব্যবহার করতে পারবেন। নির্বাচন কমিশন বা রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমোদন থাকলে সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক ও জরুরি কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের যানবাহন এবং মোটরসাইকেলও চলাচল করতে পারবে।

এছাড়া নির্বাচনি কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিটিআরসি ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানের যানবাহনও নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে। জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর ও আন্তঃজেলা যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতেও এ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর