Monday 09 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সাবেক হেভিওয়েটদের আসন
ঢাকা-১-এ বিএনপির আশফাকের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের নজরুল

মো. মহসিন হোসেন স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:৫০

ঢাকা-১-এ বিএনপির আশফাকের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের নজরুল। ছবি কোলাজ: সারাবাংলা

ঢাকা: দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা রাজধানীকে নিয়ে ঢাকা জেলা। এই জেলায় সংসদীয় আসন ২০টি। এরই মধ্যে এসব আসনের নির্বাচনি প্রচার শেষ হয়েছে। আর দু’দিন পরে ভোট। এখন শেষ মুহূর্তের আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত সবাই। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ভোটের মাঠে নেই। তাই এবার নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাংলাদেশের বৃহৎ দল বিএনপি এবং নতুন উদ্যোমে রাজনীতিতে ফেরা জামায়াতে ইসলামী। বাংলাদেশের প্রাণকেন্দ্র ঢাকাতেও তারা সমান তালে নির্বাচনের মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।

ঢাকা জেলার দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা গিয়ে গঠিত ঢাকা-১ আসন। এই আসনে ভোটার সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ ৪০ হাজার। এই আসনটিতে নির্বাচিত হয়েছেন অনেক হেভিওয়েট প্রার্থী। এদের মধ্যে অন্যতম বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা, আওয়ামী লীগের সালমান এফ রহমান ও জাতীয় পার্টির সালমা ইসলাম। তবে আওয়ামী লীগবিহনী আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে নির্বাচনি লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছে স্থানীয়রা। গত ১২টি নির্বাচনে মূলত এখানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলেও, এবার সাধারণ ভোটাররা মনে করছেন, লড়াইটা হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে।

বিজ্ঞাপন

এক পাশে মুন্সীগঞ্জ ও অন্যপাশে কেরাণীগঞ্জ। পদ্মা তীরের দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন নিয়ে ঢাকা-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও নবাবগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান খন্দকার আবু আশফাক। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী থেকে ছাত্রশিবিরের সাবেক সেক্রেটারি ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন মাওলানা নুরুল ইসলাম। এছাড়াও রয়েছেন প্রয়াত ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার মেয়ে তৃণমূল বিএনপির অন্তরা সেলিমা হুদা। এদের বাইরে জাতীয় পার্টির থেকে নির্বাচন করছেন নাসির উদ্দিন মোল্লা এবং বাংলাদেশ লেবার পার্টির শেখ মো. আলী।

তবে নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাক ও জামায়াতের ব্যারিস্টার নজরুল ইসলামের মধ্যে। তবে জামায়াতের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মতো দোহার-নবাবগঞ্জ থেকে নির্বাচন করছেন। গত কয়েক মাস ধরে তিনি নিয়মিত গণসংযোগ ও প্রচার চালিয়েছেন। করেছেন উঠান বৈঠক। এ ছাড়া, হাট-বাজারে ভোটারদের সঙ্গে করেছেন মতবিনিময়। দিয়েছেন নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি।

দোহার উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি নূর-এ-আলম ঝিলু সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি ভোটাররা জেনে-বুঝে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে একটি উন্নত বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখবে। নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা ভোটাররা এবার পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দেবেন বলে আমরা আশাবাদী।’

আর জামায়াতের প্রার্থী ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হলে শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে চাই। ঢাকা জেলার এই অংশকে পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। পদ্মা নদীর তীর ঘেঁষে পর্যটন এলাকা গড়ে তোলা হবে। শিশুদের জন্য খেলার মাঠ, জনগণের চলাচলের জন্য উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকবে।’

অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাকও ভোট পেতে দিনরাত পরিশ্রম করেছেন। তিনি ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নিজের পক্ষে জনমত তৈরি করেছেন। সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমার প্রথম কাজ হচ্ছে এই এলাকায় গ্যাসের ব্যবস্থা করে শিল্পকারখানা গড়ে তোলা। ৫০ বেডের হাসপাতালকে ১০০ বেডে রূপান্তরিত করা। আমার প্রথম কাজ হবে চাঁদাবাজি, রাহাজানি, ছিনতাই ও ডাকাতি বন্ধ করা। কোনো ধরনের চাঁদাবাজিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।’

দোহার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ পারভেজ সারাবাংলাকে বলেন, ‘ভোটাররা বিএনপিকে ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছেন। ব্যালটের মাধ্যমেই প্রমাণিত হবে জনগণ কাকে তাদের জনপ্রতিনিধি হিসেবে চায়।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে। আর এলাকার সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। জনগণের জন্য কাজ করবেন এমন একজন জনপ্রতিনিধি তারা নির্বাচিত করতে চান। এই আসনের ভোটারদের দাবি, যিনি নির্বাচিত হবেন তিনি যেন চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে ব্যবস্থা নেন। শুধু মুখে উন্নয়নের কথা না বলে, বাস্তবে উন্নয়ন করেন।

উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সালে এই আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আবু মোহাম্মদ সাইদুর রহমান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ সালে বিএনপির খন্দকার দেলোয়ার হোসেন সংসদ সদস্য হন। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনের আগে সীমানা পরিবর্তন করা হয়। এরশাদ সরকারের সময় অনুষ্ঠিত ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে শহীদ খন্দকার জাতীয় পার্টি থেকে এমপি হন। ১৯৮৮ সালেও শহীদ খন্দকার পুনরায় নির্বাাচিত হন।

কিন্তু ১৯৯১ সালে বিএনপি থেকে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা নির্বাচিত হয়ে সংসদে যান। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি ও একই বছরের জুনে দুইবার নির্বাচন হয়। দুই বারই নাজমুল হুদা নির্বাচিত হন। এমনকি ২০০১ সালেও নাজমুল হুদা নির্বাচিত হয়ে সংসদে যান। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ থেকে আব্দুল মান্নান খান, ২০১৪ সালে জাতীয় পার্টি থেকে (এরশাদ) সালমা ইসলাম, ২০১৮ সালে ও ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ থেকে সালমান এফ রহমান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

বিজ্ঞাপন

আরো

মো. মহসিন হোসেন - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর