বগুড়া: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বগুড়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়াল বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চল সফর। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর নিজ জেলা বগুড়ায় এসে টানা জনসভা, পথসভা, ধর্মীয় কর্মসূচি ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেন। বিএনপির অঙ্গসংগঠনের কর্মী এবং হাজার হাজার সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে বগুড়ার রাজনৈতিক ধারায় নতুন মাত্রা পেয়েছে। নির্বাচনী সফর হলেও তার দুই দিনের কার্যক্রমে ছিল বগুড়ার মানুষের জন্য আত্মিক বন্ধনের গল্প।
সংশ্লিষ্টারা বলছেন, বগুড়ায় সফরে তিনি যেখানে গিয়েছেন সেখানেই নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের ঢল নেমেছে। তারেক রহমানের বক্তব্যে বারবার উঠে আসে ঐক্য, উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের কথা। তার এই বক্তব্যে বদলে গেছে বগুড়ার নির্বাচনী মাঠ। চা-স্টল থেকে শুরু করে মাঠে-ঘাটে চলছে আলোচনার ঝড়।
বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, বগুড়ায় বিএনপির হারানো দুর্গ এবার ফিরে পাবেন তারা। বগুড়ার ৭টি সংসদীয় আসন সব সময় বিএনপির দখলে থাকতো। দীর্ঘ দিন এই আসনগুলো তাদের হাতছাড়া হয়েছিল। তাই এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে ধানের শীষের প্রার্থীদেরকে তারা বিজয়ী করবেন।
গত ২৯ জানুয়ারি বগুড়ায় নির্বাচনি সফরে আসেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ওইদিন শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে নির্বাচনি জনসভায় তিনি বক্তব্য দেন। জনসভায় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তারেক রহমানের উপস্থিততি হওয়ার কথা থাকলেও রাজশাহী-নওগাঁয় জনসভা থাকার কারনে বগুড়ায় পৌছেন রাত প্রায় ১২টায়। ঘরের ছেলেকে নিজ চোখে একবার দেখার ও মুখের কথা শোনার জন্য গভীর রাত পর্যন্ত লাখ লাখ সাধারণ জনগণসহ নেতাকর্মীরা অপেক্ষা করেন। পরে তিনি বগুড়াবাসীর উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন।
সেদিন রাতে ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠের জনসভা পরিণত হয় জনসমুদ্রে। রাত গভীর হলেও মানুষের উচ্ছ্বাসে কোনো ভাটা পড়েনি। পথে পথে নেতা-কর্মীরা রাস্তার দুই ধারে সমবেত হয়ে তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে অপেক্ষায় ছিলো ঘন্টার পর ঘন্টা। সেই কারণে তা ডিঙিয়ে সমাবেশস্থলে আসতে নির্ধারিত সময়ের চাইতে সাড়ে ৫ ঘন্টারও বেশি সময়ে লেগে যায়।
বক্তব্যের শুরুতেই বগুড়াবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তারেক রহমান বলেছিলেন, তিনি কিছু দিতে আসেননি। বরং মানুষের দোয়া, সমর্থন ও মানসিক শক্তি চাইতে এসেছেন। তিনি জনসভায় উল্লেখ করেন, দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক ধারা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে লক্ষ্যে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার বিকল্প নেই।
বগুড়াবাসীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেছিলেন, শুধু নিজের এলাকার নয়। গোটা দেশের ভবিষ্যৎ ভেবে ভোট দেওয়ার জন্য। যোগ্যতার ভিত্তিতেই সব সুযোগ বণ্টন হবে। যাতে কেউ বলতে না পারে বগুড়ার জন্য অন্যায় সুবিধা নেওয়া হচ্ছে। বগুড়াকে বিতর্কিত করা যাবে না। তার এমন বক্তব্যে বগুড়ার মানুষ মুগ্ধ হয়েছিলেন। এরপর থেকে তারেক রহমানের প্রতি ভালোবাসা আরও বেড়ে যায় বগুড়ার মানুষের। তিনি যতটুকু সময় বগুড়ায় থেকে জনসভা ও পথসভা করেছেন। প্রতিটি সভায় জনতার ঢল নেমেছিলো।
এমন জনস্রোত দেখে প্রবীণ রাজনীতিবিদ জিএম সিরাজ বলেছেন, বগুড়ায় তারেক বসন্ত চলছে। তার এই সফরের পর নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বগুড়ার সাধারণ মানুষ ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইছেন। এই সফর বদলে দিয়েছে নির্বাচনের মাঠ। আর সে লক্ষ্যেই বগুড়ার ৭টি সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের মাঝে দেখা দিয়েছে উৎসব-উদ্দীপনা। নেতার পদচারনায় চাঙ্গা হয়ে উঠেছেন তারা।
বগুড়া শহর বিএনপির সভাপতি এ্যাডভোকেট হামিদুল হক চৌধুরী হিরু জানান, দীর্ঘদিন পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার পিতৃভূমি বগুড়ায় আসায় সবকটি আসনে ভোটারদের বড় অংশ বিএনপির দিকে ঝুঁকছে। তবে নির্বাচনের পরিবেশ, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার ওপর চূড়ান্ত ফলাফল অনেকাংশে নির্ভর করবে। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত হলে এসব আসনে বিএনপির বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না। দলমত নির্বিশেষে ধানের শীষের প্রার্থীদের বিজয়ী করাই হবে মূল লক্ষ্য।
বিএনপি মিডিয়া সেল রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সমন্বয়ক সিনিয়র সাংবাদিক কালাম আজাদ জানান, দীর্ঘ সময় নির্বাসন শেষে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন প্রত্যাশার এক ঐতিহাসিক সম্মিলন। তার সফরে বগুড়ার মানুষ এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। এ স্বপ্নের মূল কেন্দ্রে রয়েছেন তারেক রহমান। তিনি জনগণের কল্যাণে যে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে এসেছেন তা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবেন। তরুণ ও সম্ভাবনাময় নেতৃত্ব হিসেবে তারেক রহমানকে আজ দেশের মানুষ শুধু নয়, বিশ্ব গণমাধ্যমও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখছেন।
তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের সফরের মাধ্যমে বগুড়ার রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। ১৯ বছর পর তারেক রহমানের বগুড়ায় আগমন কেবল একজন নেতার ঘরে ফেরা নয়। এটি একটি জেলার দীর্ঘ অবহেলার ইতিহাস। একটি পরিবারের বেদনার অধ্যায় এবং একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের প্রত্যাশার নাম। বর্তমানে দেশের অর্থনৈতিক সঙ্কট, মুদ্রাস্ফীতি এবং বেকারত্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একগুচ্ছ বাস্তবধর্মী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন তারেক রহমান।