রংপুর: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজ আসনে ভোট দিতে পারছেন না রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনের ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, ভোটার এলাকা পরিবর্তন করতে না পারায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এবং এর জন্য নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করেছেন তিনি।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে পীরগাছায় সাংবাদিকদের এ কথা বলেন আখতার হোসেন। তিনি জানান, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) করার সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। তখন বর্তমান ঠিকানা হিসেবে ঢাকার ঠিকানা ব্যবহার করায় তার নাম ঢাকার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, তার ভোটকেন্দ্র ঢাকার উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
আক্ষেপ প্রকাশ করে আখতার হোসেন বলেন, ‘ভোটার এলাকা পরিবর্তনের জন্য তিনি যথেষ্ট চেষ্টা করেছেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন কোনো সহযোগিতা করেনি। যেখানে কাউকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ছবি তুলে পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে, সেখানে তার সামান্য কাজে অসহযোগিতা করা হয়েছে। তার স্থায়ী ঠিকানা কাউনিয়া উপজেলার সদরা তালুক গ্রাম হলেও বর্তমানে তিনি ঢাকার ভোটার।’
এদিকে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভোটার স্থানান্তরের আবেদন সঠিকভাবে করলে সহায়তা করা হয়। তার অভিযোগের তদন্ত চলছে।
জানা গেছে, রংপুর-৪ আসনে এবার মোট আট জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আখতার হোসেন ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রয়েছেন— বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির আবু নাসের শাহ মোহাম্মদ মাহবুবার রহমান (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা মুহাম্মাদ জাহিদ হোসেন (হাতপাখা), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আবু সাহমা (রিকশা), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-মার্কসবাদীর প্রগতি বর্মণ (কাঁচি), বাংলাদেশ কংগ্রেসের উজ্জ্বল চন্দ্র রায় (ডাব) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়নুল আবেদীন ও শাহ্ আলম বাসার।
আসনটিতে মোট ভোটার ৫ লাখ ৯ হাজার ৯০৬ জন। এর মধ্যে যার মধ্যে ৪ হাজার ৬৪৩ জন পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন। এই আসনে ১৬৩টি কেন্দ্রের ৯৪৪টি বুথে ভোটগ্রহণ হবে।
এদিকে নির্বাচনি প্রচারের সময় আখতার হোসেনকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে তিনি পীরগাছা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। এছাড়া তার শেষ প্রচার মিছিলেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। তিনি বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘন, ভোট কেনা ও হামলার অভিযোগ তোলেন।