Saturday 14 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

আ. লীগের ভোটে বিএনপির জয়, নাকি ব্যবধান ঘুচিয়েছে জামায়াত 

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:৩৬ | আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:৪৪

কক্সবাজারের ৪টি আসনেই জমজমাট লড়াই বিএনপি ও জামায়াতের।

কক্সবাজার: কক্সবাজারে সংঘাত-সহিংসতার আশঙ্কা আর ভোটের সমীকরণে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা ছিল। তবে সব শঙ্কা উড়িয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। প্রাণহানি বা বড় ধরনের সহিংসতার ঘটনা ছাড়াই নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন এটিকে একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছে।

কিন্তু ভোট-পরবর্তী রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে এখন অন্য প্রশ্ন, কক্সবাজারের চারটি আসনেই বিএনপি জয় পেলেও কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক কার পক্ষে গেছে? বিএনপি কি সেই ভোট টেনেছে, নাকি জামায়াতে ইসলামী ভাগ বসিয়ে ব্যবধান কমিয়েছে?

জেলার চারটি আসনের ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবগুলো আসনে বিএনপি জয়ী হলেও জামায়াতের প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ভোট পেয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রেই প্রত্যাশার তুলনায় বেশি ভোট পাওয়ায় আলোচনায় এসেছে আওয়ামী লীগের ভোট কারা পেয়েছে সেই প্রশ্নটি।

বিজ্ঞাপন

 

কক্সবাজার-১: বড় ব্যবধানে এগিয়ে সালাহ্উদ্দিন আহমেদ

কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ্উদ্দিন আহমেদ পেয়েছেন দুই লাখ ২২ হাজার ১৯ ভোট। জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ফারুখ পেয়েছেন এক লাখ ২৯ হাজার ৭২৮ ভোট। ব্যবধান ৯২ হাজার ২৯১। মোট ভোট পড়েছে তিন লাখ ৬২ হাজার ৪২৭। ভোটার উপস্থিতি ছিল ৬৭ দশমিক ৬ শতাংশ।

নতুন মুখ হয়েও ফারুখের প্রাপ্ত ভোট বিশ্লেষকদের দৃষ্টি কেড়েছে। তাদের মতে, আওয়ামী লীগের একটি অংশের ভোট জামায়াতের প্রার্থীর ঝুলিতে গেছে।

 

কক্সবাজার-২: ভূমিধস জয় আলমগীর ফরিদের

কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ্ ফরিদ পেয়েছেন এক লাখ ২৫ হাজার ৫৪৩ ভোট। জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ পেয়েছেন ৯১ হাজার ৮৮৯ ভোট। ব্যবধান ৩৩ হাজার ৬৫৪। মোট ভোট পড়েছে দুই লাখ ৩২ হাজার ৭০৯।

স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের কিছু নেতা প্রকাশ্যে জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয় থাকলেও তৃণমূলের বড় অংশ বিএনপিকে ভোট দিয়েছে – এমন ধারণাও রয়েছে।

 

কক্সবাজার-৩: প্রত্যাশার চেয়ে শক্ত লড়াই

কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা লুৎফুর রহমান কাজল পেয়েছেন এক লাখ ৮২ হাজার ৯৬ ভোট। জামায়াতের প্রার্থী শহিদুল আলম বাহাদুর পেয়েছেন এক লাখ ৬১ হাজার ৮২৭ ভোট। ব্যবধান ২০ হাজার ২৬৯। মোট ভোট পড়েছে ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫৯৪।

সংসদ নির্বাচনে অভিজ্ঞতাহীন হয়েও জামায়াতের প্রার্থী বাহাদুর প্রত্যাশার তুলনায় বেশি ভোট পাওয়ায় এখানে আওয়ামী লীগের ভোট জামায়াতের পক্ষে গেছে বলে ধারণা জোরালো হয়েছে।

 

কক্সবাজার-৪: হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী পেয়েছেন এক লাখ ২৩ হাজার ৫৮২ ভোট। জেলা জামায়াতের আমির নুর আহমেদ আনোয়ারী পেয়েছেন এক লাখ ২২ হাজার ৩৩ ভোট। ব্যবধান মাত্র এক হাজার ৫৪৯ ভোটের। মোট ভোট পড়েছে দুই লাখ ৫৫ হাজার ২৩১।

বিশ্লেষকদের মতে, সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির ব্যক্তিগত প্রভাব ও আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক এই আসনের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বড় ভূমিকা রেখেছে।

 

রাজনৈতিক বার্তা কী?

চার আসনেই বিএনপির জয় নিশ্চিত হলেও জামায়াতের প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোট প্রশ্ন তুলেছে, আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক কি বিএনপির পক্ষে গেছে, নাকি জামায়াতের পক্ষে?

এবারের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচনের পাশাপাশি সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত ‘জুলাই সনদ, ২০২৫’ প্রস্তাবেও ভোট দেন নাগরিকরা। চার আসনেই ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশের পর গেজেট জারি করবে। তবে রাজনৈতিক মহলে এখন প্রধান আলোচ্য বিষয়, কক্সবাজারে আওয়ামী লীগের ভোট কোন দিকে সরে গেল, আর সেই স্রোত ভবিষ্যতে কার পক্ষে স্থায়ী হবে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর