Sunday 15 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ছায়া মন্ত্রিপরিষদ গঠন করবে জামায়াত

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:৩২

ঢাকা: ১১ দলীয় ঐক্যের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট শিশির মনির ছায়া মন্ত্রিপরিষদ গঠন করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন, তার একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টা ৫ মিনিটে উনি স্ট্যাটাসটি দিয়েছেন।

শিশির মনিরের ছায়া মন্ত্রিপরিষদ সম্পর্কে বিস্তারিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন নাট্যকার, শিক্ষানবিশ আইনজীবী ও রাজনীতিবীদ মোসাব্বের হোসেন মুয়ীদ।

তিনি লিখেছেন, ছায়া মন্ত্রিপরিষদ আসলে কী?

ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ স্যার রবার্ট পিল ১৮৩৬ সালে যখন তার প্রাক্তন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে বর্তমান সরকারের বিরোধিতা করার জন্য একটি দল গঠন করেন, ঠিক তখন থেকেই এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছিল। ‘শ্যাডো ক্যাবিনেট’ বা ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ শব্দটি ১৮৮০-এর দশকের দিকে প্রথম সংবাদপত্রে আসতে শুরু করে। তবে ১৯০৬ বা ১৯১০ সালের দিকে এটি আরও বেশি পরিচিতি পায়। ১৯২২ সালে যুক্তরাজ্যে যখন লেবার পার্টি প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, তখন তারা এই ব্যবস্থাকে আরও সংগঠিত ও রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী করে তোলে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৫১ সালে লেবার নেতা হিউ গেটস্কেল প্রথম আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করেন, যাতে প্রতিটি সরকারি দফতরের জন্য একজন নির্দিষ্ট বিরোধী মুখ নিযুক্ত থাকে।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে এটি যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের মতো ওয়েস্টমিনিস্টার পদ্ধতির দেশগুলোতে একটি সুপ্রতিষ্ঠিত সংসদীয় রীতি হিসেবে স্বীকৃত।

যুক্তরাজ্যে ছায়া মন্ত্রিসভাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেখানে একে “Her Majesty’s Loyal Opposition” বা ‘মহামান্যের অনুগত বিরোধী দল’ বলা হয়। বর্তমানে যদি লেবার পার্টি ক্ষমতায় থাকে, তবে কনজারভেটিভ পার্টি তাদের একটি শক্তিশালী ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করে রেখেছে। বিরোধী দলীয় নেতাকে এজন্য সরকারিভাবে বেতন ও সুযোগ-সুবিধাও দেওয়া হয়। কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার দেশগুলোতে ছায়া মন্ত্রিসভাকে “Official Opposition” বলা হয়।

এইবার আসি আমরা মূল আলোচনায় যে ছায়া মন্ত্রীপরিষদ আসলে কী?

ছায়া মন্ত্রিসভা বা ছায়া মন্ত্রীপরিষদ হলো সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার একটি বিশেষ কাঠামো, যেখানে প্রধান বিরোধী দল বর্তমান সরকারের বিকল্প হিসেবে নিজস্ব একটি মন্ত্রিসভা গঠন করে। ধরেন, এখন বিএনপি মেজোরিটি পেয়েছে, ইলেকশনে। বিএনপি মন্ত্রী পরিষদ করবে। এখন ১১ দলীয় জোটও তাদের একটি স্যাডো মিনিস্ট্রি গঠন করবে।

এটি মূলত বিরোধী দলের পক্ষ থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার একটি আগাম প্রস্তুতি। বিরোধী দল তাদের সিনিয়র সদস্যদের নিয়ে এটি গঠন করে, যাতে তারা ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গেলে দ্রুত দায়িত্ব বুঝে নিতে পারে। ধরেন, এনসিপি এবং জামায়াতে ইসলাম, এদের কারোর অভিজ্ঞতা নেই সরকার চালানোর। কিন্তু ছায়া মন্ত্রী পরিষদ গঠন করলে তাদের প্রাকটিস হবে বিরোধী দল থাকা অবস্থায় যে সরকার কোনো সময় গঠন করলে কীভাবে তারা রাষ্ট্র পরিচালনা করবে।

এই মন্ত্রিসভার প্রতিটি সদস্যের কাজ হলো, বর্তমান সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর কাজের ওপর কড়া নজর রাখা এবং তাদের নীতিগুলো বিশ্লেষণ করা। ধরেন, বিএনপির শিক্ষামন্ত্রীর শিক্ষামন্ত্রণালয় একটা সিদ্ধান্ত নেবে এদিকে ছায়া মন্ত্রিসভার যে শিক্ষামন্ত্রী থাকবে সে নজরদারিতে রাখবে যে কি কী স্টেপ নিচ্ছে এবং তারা বিশ্লেষণ করবে সেগুলি জাতির সামনে।

ধরেন, বিএনপির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নিলেন যে, দেশের বাহির থেকে অস্ত্র কিনবে। তাহলে এনসিপি এবং জামায়াতে ইসলাম যদি এখন সরকারে থাকত তারা কি কি অস্ত্র কিনতো এবং কমে তা কিনে আনতে পারতো সেইটা জনগণের সামনে তুলে ধরবে। বিএনপির স্বরাস্ট্রমন্ত্রী যদি অর্থ কেলেঙ্কারির জন্য বেশি দামে অস্ত্র কিনে আনে তাহলে ছায়া মন্ত্রিসভা সঙ্গে সঙ্গে সেটি তুলে ধরতে পারবে।

আবার, অনেক দেশে ছায়া মন্ত্রিসভা সরকারের বাজেটের পালটা একটি বিকল্প বাজেট পেশ করে দেখায় যে, তারা ক্ষমতায় থাকলে দেশ কীভাবে চালাত। ধরেন, বিএনপি একটা বাজেট পেশ করলো। এদিকে বিরোধীদলের ছায়া মন্ত্রিসভা নিজেরা একটি বাজেট বানাবে। তারা জাতির সামনে দেখাবে যে সরকারের থেকে এই বাজেট বেশি সেরা। তারা সরকারে থাকলে এইবার এই বাজেট পেশ করতো।

মূলকথা, ছায়া মন্ত্রীপরিষদ সরকারকে আরো বেশি জবাবদিহিতার মধ্যে রাখবে। অ্যাডভোকেট শিশির মনির যদি আবেগী না হয়ে স্ট্যাটাস দিয়ে থাকে এবং আসলেই তারা ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করে, শক্তিশালী একটি ছায়া মন্ত্রিসভা হয়, সেইটা নাগরিকদের জন্য ভালো হবে। তারা এখন থেকেই আগামীতে দেশ পরিচালনার জন্য ক্যাপাবল হয়ে যাবে। কোন ইমারজেন্সিতে সরকারের পতন ঘটলে বিরোধী দলই দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে ফেলতে পারবে। কারণ, তারা ছিল ছায়া মন্ত্রিসভা। দেশের সকল সিচুয়েসনের সাথে ওয়াকিবহুল ছিল। তারা আগামীতে দেশ কিভাবে চালাবে সেই প্ল্যানও তাদের হাতে ছিল।

ছায়া মন্ত্রীপরিষদ কিংবা শ্যাডো ক্যাবিনেট একটা চমৎকার অধ্যায় হবে আমাদের দেশের রাজনীতির জন্য এবং জনগণের জন্যও। যদি সরকারি কোনো সুবিধা পাবে না, সহায়তা পাবে না। কিন্তু কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারলে নাগরিকদের জন্য সুফল আনবে। ১১ দলীয় জোট বিরোধী দল হিসেবে খুব অ্যাডভান্সড। এত অ্যাডভান্সড বিরোধী দল সরকারকে প্রচুর প্রেশারে রাখতে সক্ষম। এ যাবৎকালের সেরা বিরোধী দল বাংলাদেশ বুঝি পেতে চলেছে।

বিজ্ঞাপন

ছায়া মন্ত্রিপরিষদ গঠন করবে জামায়াত
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:৩২

লা লিগা বড় জয়ে শীর্ষে ফিরল রিয়াল
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:৪১

আরো

সম্পর্কিত খবর