ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধ্বস জয়ের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে শপথ নিতে যাচ্ছে বিএনপি সরকারের মন্ত্রিপরিষদ। এর আগে একইদিন সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।
বলতে গেলে এটা নিশ্চিত যে, নবগঠিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আর তার সরকারের মন্ত্রিপরিষদে কারা জায়গা করে নিচ্ছেন তা নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। সেইসঙ্গে আলোচনা চলছে নতুন রাষ্ট্রপতি, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের পদ নিয়ে।
সারাবাংলার অনুসন্ধানে মন্ত্রিপরিষদের সম্ভাব্য সদস্যদের নাম পাওয়া গেছে। তবে সবকিছু নির্ভর করছে নতুন সরকারের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের ওপর।
অনুসন্ধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে আসতে পারেন ড. খন্দকার মোশাররফ (রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন পরে হবে)। ড. খন্দকার মোশাররফ বর্তমানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য।
এদিকে স্পিকার পদে নাম পাওয়া গেছে দুজনের। তারা হলেন- সাবেক বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নোয়াখালী-২ আসন থেকে ছয়বারের নির্বাচিত এমপি জয়নুল আবদিন ফারুক ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান মাগুরা-২ আসন থেকে চারবার নির্বাচিত এমপি সাবেক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজের হাতে বরাবরের মতো প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় রাখবেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে নাম শোনা যাচ্ছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের। এটা পুরোনো রীতি। যে দল সরকার গঠন করে সেই দলের মহাসচিব এই মন্ত্রণালয়টি পান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নাম আছে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদের। এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দেখা যেতে পারে সাবেক ছাত্রদল সভাপতি বর্তমানে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে।
এর পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ড. হুমায়ুন কবিরের নাম আলোচনায় রয়েছে। আর অর্থমন্ত্রী হিসেবে নাম শোনা যাচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকারে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহএমএএস কিবরিয়ার ছেলে সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া ড. রেজা কিবরিয়ার।
আরও যাদের নাম পাওয়া গেছে তারা হলেন- গৃহায়ণ ও গণপূর্তে মির্জা আব্বাস, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে নজরুল ইসলাম খান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে আ ন ম এহসানুল হক মিলন, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সাঈদ আল নোমান, আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হিসেবে দেখা যেতে পারে আন্দালিব রহমান পার্থকে। আর তার প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আসতে পারেন ড. মাহদী আমিন।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আসতে পারেন ড. আব্দুল মঈন খান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শিল্প মন্ত্রণালয়ে আব্দুল আউয়াল মিন্টু, নৌপরিবহণ ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে (মেজর অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম। এমনকি এই মন্ত্রণালয়ে আসাদুল হাবিব দুলুকেও দেখা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে হাফিজ উদ্দিন অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ে যুক্ত হতে পারেন।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন ফজলুর রহমান, সড়ক পরিবহণ ও সেতুতে আমানউল্লাহ আমান, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে জোনায়েদ সাকি, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, যুব ও ক্রীড়ায় আলি আজগর লবি, ধর্ম মন্ত্রণালয়ে শামীম কায়সার লিংকন/শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, বিমান পরিবহণ ও পর্যটনে আলতাফ হোসেন চৌধুরী, কৃষিমন্ত্রী হিসেবে শামসুজ্জামান দুদু, ডাক ও টেলিযোগাযোগে নুরুল হক নূর, রেলপথে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, জনপ্রশাসনে ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ, সমাজকল্যাণে রুহুল কবির রিজভী ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে দীপেন দেওয়ানের নাম আলোচনায় রয়েছে।
নতুন মন্ত্রিপরিষদ সম্পর্কে জানতে চাইলে জয়নুল আবদিন ফারুক সারাবাংলাকে বলেন, ‘সবকিছু উপরে আল্লাহ। এর পর চেয়ারম্যানের ইচ্ছা। আমি এ বিষয়ে এখনো কিছু জানি না।’