Monday 16 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

দখলে প্রবেশমুখের ৩টিসহ ৭ আসন
ঢাকায় দাপট দেখাবে জামায়াত-এনসিপি

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:০১

১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: ত্রয়োদশ নির্বাচনের ফলাফলে দুই তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি-জোট। সারাদেশে তারা আসন পেয়েছে ২১২টি। অপরদিকে জামায়াত জোট সারাদেশে ২৯৯টি আসনের মধ্যে পেয়েছে ৭৭টি আসন।

জামায়াতে ইসলামী ও তাদের মিত্র দলগুলো সরকার গঠন না করতে পারলেও ঢাকা সিটিতে ভালো ফলাফল করেছে। ঢাকা সিটির ১৫টি আসনের মধ্যে জামায়াত এককভাবে ছয়টি ও এনসিপি একটি আসনে বিজয়ী হয়েছে। ৫৪ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম জামায়াত ঢাকায় কোনো আসনে বিজয়ী হলো। সেইসঙ্গে জোটগতভাবে সাতটি আসন পাওয়ায় ঢাকায় এবার তাদের দাপট থাকবে বলে রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা বলছেন।

জানা গেছে, বিগত দিনের নির্বাচনগুলোতে ঢাকার আসনগুলোতে যে দল জয়লাভ করেছে তারাই সরকার গঠন করেছে। কিন্তু এবার এর কিছুটা ব্যতিক্রম হয়েছে। বিএনপি নিরঙ্কুষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও ঢাকার সব আসনে বিজয়ী হতে পারেনি তাদের প্রার্থীরা। তারা পেয়েছে ১৩টি আসন। অপরদিকে জামায়াত জোট পেয়েছে সাতটি আসন।

বিজ্ঞাপন

এবারের নির্বাচনে জামায়াতের সবচেয়ে বড় টার্গেট ছিল ঢাকা-১৫ আসনটি। এটি রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা মিরপুরের আংশিক ও কাফরুল থানা। এখানে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। এই আসনে ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৩৯ হাজার ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছিলেন। তখন তিনি দলের সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন। এবার ৮৫ হাজার ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

এরপরে বড় যে বিজয় পেয়েছে জামায়াত সেটা হলো ঢাকার প্রাণকেন্দ্র তেজগাঁও, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল (একাংশ) আসনে। এখানে দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বিজয়ী হয়েছেন। এটি ঢাকা-১২ আসন। আওয়ামী লীগ আমলে এই আসনের এমপি ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এবার জামায়াত প্রার্থী ৫৩ হাজারেরও বেশি ভোট পেয়েছেন। সেখানে বিএনপি জোটের প্রার্থী বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক পেয়েছেন মাত্র ৩০ হাজার ভোট।

ঢাকা সিটির আর একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন ঢাকা-১১। আসনটিতে নির্বাচন করে এনসিপির আহবায়ক নাহিদ ইসলাম পরাজিত করেছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহবায়ক এমএ কাইয়ুমকে। এই আসনটি রাজধানীর বাড্ডা থানা, ভাটারা থানা, রামপুরা থানা, হাতিরঝিল থানার একাংশ এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২১, ২২, ২৩,৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১ ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী শ্যামপুর ও গাবতলীকে ঢাকার প্রবেশ মুখ বলা হয়। দুটি প্রবেশ মুখের একটি ঢাকা-৪ ও ৫ আসন। অপরদিকে আর একটি প্রবেশ মুখ গাবতলী এলাকা। এটি ঢাকা-১৪ আসনের অন্তর্ভুক্ত। তিনটি আসনেই বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থীরা।

ঢাকা-৪ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪৭, ৫১, ৫২, ৫৩, ৫৪, ৫৮, ৫৯, ৬০ ও ৬১ নম্বর ওয়ার্ড এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন শ্যামপুর থানা, কদমতলী থানা নিয়ে গঠিত। এখানে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা সৈয়দ জয়নুল আবেদীন। তিনি পরাজিত করেছেন ডাক সাইটে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ’র ছেলে তানভীর আহমেদ রবিনকে।

ঢাকা-৫ আসনটিও এবার কব্জা করেছে জামায়াত। এটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪৮, ৪৯, ৫০, ৬২, ৬৩,৬৪,৬৫,৬৬,৬৭,৬৮,৬৯ ও ৭০ নম্বর ওয়ার্ড (যাত্রাবাড়ী, ডেমরা) নিয়ে গঠিত। এখানে বিএনপির মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম-আহবায়ক মো. নবী উল্লাহকে পরাজিত করেছেন জামায়াতের মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন।

ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মীর আহমাদ বিন কাসেম বিজয়ী হয়েছেন। তিনি জামায়াতের প্রয়াত নেতা মীর কাসেম আলীর ছেলে। আসনটি ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার কাউন্দিয়া ইউনিয়ন, বনগাঁও ইউনিয়ন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ০৭, ০৮, ০৯, ১০, ১১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত।

ঢাকা-১৬ আসনটিও দখলে নিয়েছে জামায়াত প্রার্থী কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত আবদুল বাতেন। তিনি পরাজিত করেছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহবায়ক আমিনুল হককে। যিনি একইসঙ্গে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক। এই আসনটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২, ৩, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড (পল্লবী ও রূপনগর) নিয়ে গঠিত। এই আসনের মধ্যেই রয়েছে মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট ও মিরপুর ডিওএইচএসের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ঢাকা শহরের ২০টি আসনের মধ্যে সাতটি আসন নিজেদের দখলে নিয়ে জামায়াত জোট মাঠ কাঁপাবেন এটাই স্বাভাবিক।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর