Thursday 19 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা ও এমপিদের ঋণের হিসাব দিতে হবে: নাহিদ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:১৬ | আপডেট: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:২২

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

ঢাকা: বিএনপির নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের প্রায় ৬২ শতাংশ নির্বাচিত সংসদ সদস্য কোনো না কোনোভাবে ঋণগ্রস্ত এবং তাদের মোট ঋণের পরিমাণ ১৮ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক নির্বাচন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন।

নাহিদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা ও সংসদ সদস্যদের এই ঋণের হিসাব দিতে হবে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) একটি রিপোর্টের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলছেন, তখন তার নিজের মন্ত্রিসভার সদস্য ও সংসদ সদস্যদের এই বিশাল অংকের ঋণ কবে পরিশোধ হবে, তা দেশের মানুষ জানতে চায়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই নিজের ঘর থেকেই শুরু করা উচিত।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের হাজারো শহিদের রক্ত পেরিয়ে আমরা একটি গণতান্ত্রিক এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম। আমাদের আকাঙ্ক্ষা ছিল এই নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কার হবে, ফ্যাসিবাদের বিচার নিশ্চিত হবে এবং বাংলাদেশ আধিপত্যবাদ থেকে মুক্তি পাবে। কিন্তু বর্তমানে সেই স্বপ্ন ভঙ্গের উপক্রম হয়েছে।

নির্বাচন প্রক্রিয়া বাহ্যিকভাবে সুষ্ঠু মনে হলেও ফলাফলে কারচুপি হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে ফলাফল মেনে নিয়ে সংসদে গেলেও সরকার শুরুতেই জনগণের রায়ের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে তিনি দাবি করেন।

সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে সরকারি দলের শপথ গ্রহণ না করাকে নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী হিসেবে উল্লেখ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জুলাই বিপ্লবের যে তারুণ্যের শক্তি বাংলাদেশকে পথ দেখিয়েছে, তার প্রতিফলন বর্তমান মন্ত্রিসভায় দেখা যায়নি। মন্ত্রিসভার প্রায় ৬২ শতাংশই ব্যবসায়ী এবং তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ঋণখেলাপি। রাজনীতি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বদলে ব্যবসায়ীদের প্রাধান্য দেওয়ায় সুশাসন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ ও বড় বাজেটের মন্ত্রণালয়ে হত্যা মামলার আসামি এবং বিতর্কিত ব্যবসায়ীদের স্থান দেওয়া হয়েছে।

শুধুমাত্র আর্থিক ও ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষা করতেই এমন ব্যক্তিদের মন্ত্রী করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

সারাবাংলা/এফএন/এইচআই
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর