ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোট গড়ে অংশ নিয়েছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ ১১ দল। সংসদেও তারা একইসঙ্গে আছে বিরোধীদল হিসেবে। বর্তমানে তারা সংসদ ও রাজপথে একই কাতারে দাঁড়িয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অধিকার আদায়ে কথা বলে যাচ্ছে।
কিন্তু স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে তারা কি ঐক্যে থাকবে, না আলাদা নির্বাচন করবে?- সে বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেই প্রশ্নে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে হঠাৎ করে এনসিপির পক্ষ থেকে চার সিটি করপোরেশনে প্রার্থী ঘোষণার মধ্যে দিয়ে। তাহলে কি জামায়াত-এনসিপি আলাদাভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে?
জানা গেছে, শিগগিরই কয়েকটি সিটি করপোরেশনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। নতুন সরকার শপথ নেওয়ার পরদিন ১৮ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে দ্রুতই উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব, আমরা এগুলোতে নির্বাচনের ব্যবস্থা করব। যত দ্রুত সম্ভব, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’
অপরদিকে স্থানীয় সরকার বিভাগ অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ফেব্রুয়ারির শুরুতে সিটি নির্বাচন আয়োজনের অনুরোধ জানিয়ে ইসির কাছে চিঠি পাঠিয়েছিল। সেসব চিঠিতে ঢাকার উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আয়োজনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করে সরকার। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের কারণে তখন স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠান করা সম্ভব হয়নি।
সূত্র জানিয়েছে, দ্রুতই ঢাকার দুই সিটি, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও সিলেট সিটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। এসব সিটিতে এরই মধ্যে জামায়াতের প্রার্থীরা মাঠে রয়েছেন। অপরদিকে ২৯ মার্চ রাতে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে দলের আহবায়ক নাহিদ ইসলাম পাঁচ সিটি করপোরেশনে তাদের নিজস্ব মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন।
ঘোষণা অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে এনসিপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে লড়বেন দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব। তিনি ঢাকা-১৮ আসনে ১১দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হয়ে বিএনপির প্রার্থী এসএম জাহাঙ্গীর হোসেনের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন।
এ ছাড়া, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে এনসিপির প্রার্থী করা হয়েছে জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলামকে। সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে লড়বেন সিলেট মহানগরের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. আব্দুর রহমান আফজাল। আর রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পেয়েছেন মহানগরের আহ্বায়ক মো. মোবাশ্বের আলী।
এনসিপির এই প্রার্থী ঘোষণার বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের ঐক্য এখনো আছে। আমাদের যে ঐক্য হয়েছিল, সেটা জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। সেই ঐক্য আছে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে ঐক্য হবে কি না সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তাই যে যার অবস্থান থেকে প্রার্থী ঘোষণা করতেই পারে।’
এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘ এখন পর্যন্ত জামায়াত তাদের জায়গা থেকে বলেছে, তারা স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি এককভাবে নেওয়া শুরু করেছে। তাই আমরাও স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি এককভাবে নেওয়া শুরু করেছি।’ তবে শেষ মুহূর্তে যদি মনে হয় ১১ দলীয় জোট একসঙ্গে স্থানীয় নির্বাচন করতে পারে তখন সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ড. আবদুল মান্নান ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিনের নাম আলোচনায় রয়েছে।
অপরদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ঢাকা-১৭ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ডা. এস এম খালেদুজ্জামান।
উল্লেখ্য, দুই তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার গঠনের পর দুই দফায় দেশের ১১টির সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। এই সিটি করপোরেশনগুলোতে নির্বাচনের মেয়াদ পার হয়ে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, পর্যায়ক্রমে সিটিগুলোতে নির্বাচন দেবে সরকার।