জবি: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন কমিটি গঠনের সিধান্ত নিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ কমিটির শীর্ষ দুই পদে আলোচনায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি কাজী জিয়া উদ্দীন বাসিত।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এ সাবেক শিক্ষার্থী নেতৃত্ব পাওয়া গর্বের এবং একইসঙ্গে একটি বড় দায়িত্ব বলে মনে করেন। তিনি এক স্বাক্ষাৎকারে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ ছাত্রসংগঠন হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতৃত্ব পাওয়া শুধু সম্মানের নয়, বরং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আমানত যা যথাযথভাবে পালন করাই হবে তার মূল লক্ষ্য।
তিনি জানান, যদি সংগঠনের দায়িত্ব তার ওপর ন্যস্ত হয়, তবে দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষাবান্ধব ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করবেন। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি, সহশিক্ষা কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং ইতিবাচক ছাত্ররাজনীতি প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বাসিত বলেন, “প্রতিটি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিকভাবে সচেতন করে গড়ে তোলার ওপর আমরা গুরুত্ব দেব। কারণ সচেতন শিক্ষার্থীই পারে নিজেদের অধিকার সম্পর্কে জানাতে এবং কোনো ধরনের অপসংস্কৃতি বা উস্কানিতে প্রভাবিত না হতে।”
তিনি “মব কালচার” প্রসঙ্গে বলেন, অতীতে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের সময় শিক্ষার্থীদের উস্কে দিয়ে সহিংস পরিস্থিতিতে জড়িয়ে ফেলা হয়েছে। এর ফলে বহু শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছে, আহত হয়েছে এবং তাদের শিক্ষাজীবন ব্যাহত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদলের অনেক নেতাকর্মী হত্যা, নির্যাতন ও গুমের শিকার হয়েছেন।
এছাড়া, সাম্প্রতিক গণআন্দোলনে ৪২ জনের বেশি শিক্ষার্থীর শহীদ হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
মাদক সমস্যাকে বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে বাসিত বলেন, “ক্যাম্পাসভিত্তিক মাদকবিরোধী সচেতনতা গড়ে তুলতে ছাত্রদল কাজ করবে। তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে আমরা বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেব।”
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে ওয়ার্কশপ, সেমিনার, প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। এর মাধ্যমে শুধু ছাত্রদলের নেতাকর্মী নয়, সাধারণ শিক্ষার্থীদেরও দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সবশেষে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সবসময় শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করেছে। ভবিষ্যতেও শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত এবং একটি সুস্থ ক্যাম্পাস সংস্কৃতি গড়ে তুলতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করব। দায়িত্ব পেলে ইনশাআল্লাহ সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”
কাজী জিয়া উদ্দীন বাসিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি এমফিল ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘মাস্টার্স ইন পলিটিক্যাল সাইন্সে’ অধ্যায়নরত রয়েছেন।
বাসিত বর্তমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি হিসেবে আছেন। এর আগে কেন্দ্রীয় সংসদে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেব দায়িত্ব পালন করেছেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের প্রস্তাবিত আহ্বায়ক হিসেবে ছিলেন।
২০১৫ সালে অবরোধ চলাকালীন সময়ে মিছিলে পুলিশের হামলায় গ্রেফতার এবং পরবর্তীতে পুলিশের গুলির মুখে ৪ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেলেও মারাত্মক ভাবে আহত হন। এতে তিনি টানা ১০ মাস চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন। আন্দোলন সংগ্রামে মোট ৭ বার তিনি আহত হয়েছেন।
ফ্যাসিস্ট হাসিনার সময় তিনি ৪ বার গ্রেফতার ও কারানির্যাতনে শিকার হন। তার ওপর মোট মামলা হয় ৯ টি এর মধ্যে এখনো কয়েকটি মামলা বিচারাধীন আছে। ২ টি মামলায় তিনি সাজাভোগ করেন।