ঢাকা: সিলেট থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে যারা আলোচনায় রয়েছেন তাদের মধ্যে ব্যারিস্টার সামীরা তানজীন চৌধুরী অন্যতম। পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য তার বড় শক্তি। ব্যারিস্টার সামীরা প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব প্রয়াত হারিছ চৌধুরীর কন্যা।
তিনি ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের সিনিয়র কোর্টের প্র্যাকটিসিং সলিসিটর এবং ব্রিটিশ সরকারের আইনজীবী হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতার কারণে মানবাধিকার, সিভিল লিটিগেশন ও গভর্ন্যান্স বিষয়ে বিশেষজ্ঞ। যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশে দীর্ঘ আইনি অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তিনি দলের ত্যাগী রাজনীতির উত্তরসূরি।
তিনি সংসদ সদস্য হতে পারলে শিক্ষার উন্নয়ন, নারী ক্ষমতায়ন, আইনের শাসন ও স্বচ্ছ প্রশাসন প্রতিষ্ঠাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করবেন বলে ইচ্ছা পোষণ করেছেন।
কানাইঘাট–জকিগঞ্জ (সিলেট-৫) আসন থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে একজন প্রতিনিধি হিসেবে সামীরা তানজীন চৌধুরীর মনোনয়ন পাওয়া অত্যন্ত যৌক্তিক ও সময়োপযোগী বলে মনে করেন ওই এলাকার মানুষ।
স্থানীয়রা বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিগত ১৭ বছরের ত্যাগ তিতিক্ষার মূল্যায়ন চায় এলাকাবাসী। সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে এই আসনটি বর্তমান সরকারের প্রতিনিধিত্ব নেই, বিধায় দীর্ঘদিনের উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত এই এলাকায় সরকারের উন্নয়ন পলিসি বাস্তবায়নের জন্য এই আসন থেকে সংরক্ষিত আসনে নারী সংসদ সদস্য মনোনয়নের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, জিওবি অথবা ডেভেলপমেন্ট পার্টনারদের অর্থায়নে এই এলাকার জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও বাস্তবায়নে যে মেধা, প্রজ্ঞা এবং পারিবারিকভাবে প্রাপ্ত শিক্ষা প্রয়োজন তা সামীরা তানজীন চৌধুরীর মধ্যে বিদ্যমান আছে।
মন্ত্রণালয় ও ডেভেলপমেন্ট পার্টনারদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ স্থাপনে শিক্ষাগত যোগ্যতা, ব্যক্তিগত দক্ষতা ও ক্যারিশমা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; যা হারিছ চৌধুরীর সুযোগ্য কন্যার মধ্যে বিদ্যমান রয়েছে। তিনি নির্বাচনে সিলেট-৫ এ দল মনোনীত জোটের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন এবং জাতীয়ভাবে টেলিভিশন টকশোতে দলকে ও দলীয় আদর্শকে সুন্দর সঠিক ও সুচারুভাবে উপস্থাপন করেছেন।
স্থানীয় রাজনীতি সচেতন ব্যক্তিরা বলেন, সর্বজন শ্রদ্ধেয় হারিছ চৌধুরীর পর বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে এই অঞ্চলে আর কেউ সেইভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেননি। বাবার রেখে যাওয়া সেই শূন্যস্থান সামীরা তানজীন চৌধুরীর বিগত দিনের সংগ্রাম, ত্যাগ-তিতিক্ষা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব বলে আমরা দৃঢ়ভাবে মনে করি।
সামীরা তানজীন চৌধুরী সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমার বাবা দল ও দেশপ্রেমিক এবং ’৭১- এর রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তিনি বিএনপি তথা দেশের মানুষের জন্য আজীবন কাজ করে গেছেন। এলাকায় প্রচুর রাস্তা-ঘাট-ব্রিজ, স্কুল-কলেজ নির্মাণ করেছেন। তার সময়ে তার এলাকার এমন কোনো মসজিদ নেই, যেটা সরকারি বরাদ্দ পায়নি। তার আরও উন্নয়ন পরিকল্পনা ছিল। ১/১১ সরকার ও পরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাবা রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে পারেননি। সেই সময়ে আমাদের এলাকা অত্যন্ত বঞ্চিত ছিল। তখন তিনি আড়ালে থেকেও নীরবে দানকার্য চালিয়ে গেছেন।’
তিনি বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি মনোনয়ন চাইনি, কিন্তু একটি সেবামূলক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাবার কাজের ধারা ধরে রাখতে চেষ্টা করেছি। নির্বাচনে জোটের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছি। সংরক্ষিত নারী আসনে দলের প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব পেলে আব্বুর করে রেখে যাওয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী এলাকার রাস্তাঘাট ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নারী ক্ষমতায়ন, আইনের শাসন ও স্বচ্ছ প্রশাসন প্রতিষ্ঠাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করব।’