ঢাকা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে উদ্দেশ করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, উনি বলেন নাই, এদেশের জনগণ না বুঝে ভোট দিয়েছে? গোটা দেশের জনগণকে মূর্খ সাব্যস্ত করে উনি মাস্টার সাজেন। মাস্টার সেজে এদেশের জনগণ ও জণগণকে প্রতিনিধিত্ব করা ৩০০ সংসদ সদস্যকে সংবিধান পড়ান। দাম্ভিকতার একটা সীমা থাকা উচিত। জনগণকে অপমান করার এই ভূত আসলে নতুন ভূত না। শেখ হাসিনার ঘাড়ে সওয়ার হওয়া সেই পুরাতন ভূত আপনাদের কাঁধে এসেছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মুক্তিযোদ্ধা মিলনায়তনে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের উদ্যোগে ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহবায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি।
বর্তমান সরকারকে শেখ হাসিনার ভূতে ধরেছে দাবি করে মামুনুল হক বলেন, ‘ভূতটা হলো জনগণকে অপমান করার ভূত। শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনকে খুব সংক্ষেপে মূল্যায়ন করা হলে সেটা ছিল এদেশের জণগণকে নিয়ে উপহাস করা, জণগণকে যখন তখন যেভাবে ইচ্ছা অপমান করা।’
তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মানুষকে শুনিয়েছিল, নতুন এক গণতন্ত্রের সংজ্ঞা— উন্নয়নের গণতন্ত্র। জনগণের মতামত লাগবে না, তিনি মেট্রোরেল আর পদ্মাসেতু দিয়ে গণতন্ত্র বাস্তবায়ন করেছিলেন। সর্বশেষ শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের কফিনে যে পেরেকটা ঠুকেছিল, সেটাও ছিল জনগণকে অপমান করার এক বিভৎস দৃষ্টান্ত। চার কোটি ছাত্র জনতাকে বলেছিল, রাজাকারের নাতিপুতি।’
সরকারের প্রতি জণগণের অধিকার ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ করে মামুনুল হক বলেন, ‘জণগণের সার্বভৌমত্বের প্যারালাল হিসেবে দাঁড় করানো হয় তাদের দুই তৃতীয়াংশের সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে। সংসদে দাঁড়িয়ে গোটা দেশের জনগণকে মূর্খ সাব্যস্ত করা হয়।
সরকারের প্রতি জনগণের শক্তিকে ক্ষুদ্র করে না দেখার আহ্বান জানিয়ে মামুনুল হক বলেন, ‘আজ বিএনপির অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, তারা ক্ষমতায় বসে জণগণকে ইঁদুর আর নিজেদের সিংহ ভাবতেছে। জণগণকে সম্মান করতে শিখুন। বাংলাদেশে এবার চতুর্থ গণভোট। বাংলাদেশে তো নয়ই বিশ্ব ইতিহাসে গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করার কোনো নজির নেই। এই নতুন নজির স্থাপন করে নিজেদেরকে ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত করবেন না।’
‘শহিদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার বিএনপির প্রতি এটা আমাদের সর্বশেষ শুভকামনা। এরপরেও যদি আমাদের কিছু বলতে হয় তাহলে আন্দোলনের মাঠে কথা হবে। রাজপথে আমরা মোকাবেলা করব ইনশাআল্লাহ।’
তিনি আগামী ২৪ এপ্রিল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আয়োজিত সমাবেশ সফল করার জন্য সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।ৎ