চুয়াডাঙ্গা: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার আমীর রুহুল আমিন বলেছেন, মাইলস্টোন স্কুলে দুর্ঘটনার সংবাদ শুনে সহযোগীতা করতে সবার আগে আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান ছুঁটে গিয়েছিলেন, অথচ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এটা নিয়ে একশ্রেণীর মানুষ ট্রল করছে। তাদের মনে করিয়ে দিতে চাই, এর আগে যখন ফেনীতে বন্যা হয়েছিল সবার আগে আমিরে জামায়াত সেখানে গিয়েছিলেন। যখন লঞ্চ দূর্ঘটনা হয়েছে সেখানে সবার আগে তিনি গিয়েছিলেন, যখন হিন্দু পরিবারের উপর হামলা হয়েছে, সবার আগে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন এবং আমাদের বলেছেন প্রতিটি মন্দির পাহারা দিতে। আমরা ছবি উঠার জন্য এসব করিনা। আমীরে জামায়াত লোক দেখানোর জন্য এসব করেননা।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টায় জামায়াতে ইসলামী দর্শনা পৌর শাখার উদ্যোগে হল্ট রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন মার্কেটে ঢাকা উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল এ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনায় এই দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
মাইলস্টোন ট্রাজেডির পর জামায়াত আমির উত্তরা আধুনিক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বলেছেন, আমরা ২৪ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছি আপনাদের সাহায্য করার জন্য, ৫০ লাখ টাকা সাথে সাথে দিয়েছেন এবং ইবনে সিনা থেকে ১৪টি ও ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল থেকে ৪টি মোট ১৮ চিকিৎসকের টিম পাঠিয়েছেন। যারা আল্লাহর জন্য রাজনীতি করে তাদের সাথে লড়তে এসে কোন লাভ নেই। আমাদের সাথে লড়তে এসে শেখ হাসিনা নিষিদ্ধ করেছিল, এখন সে নিজেই নিষিদ্ধ হয়ে ভারতে পালিয়েছে। আমাদের উপর হামলা হয়েছে, মামলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা জামায়াতে ইসলামী এসবের বিপরীতে রাজনীতি করি আল্লার সন্তুষ্টি অর্জন ও মানুষের কল্যাণ সাধনের জন্য। এজন্য আপনারা সব দল দেখেছেন এবার জামায়াতকে ক্ষমতায় বসিয়ে একবার দেখেন আমরা কল্যাণমুখী রাষ্ট্র উপহার দিতে চাই।
দর্শনা পৌর নায়েবে আমির গোলজার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, জেলা নায়েবে আমির মাওলানা আজিজুর রহমান, জেলা সহকারী সেক্রেটারী আব্দুল কাদের, দর্শনা থানা আমির মাওলানা রেজাউল করিম, সহকারী সেক্রেটারী জাহিদুল ইসলাম, পৌর সেক্রেটারী শাহরিয়ার আলম দবিরসহ অন্যান্যরা। আলোচনা শেষে দোয়া পরিচালনা করেন মাজলিসুল মুফাসিরিনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মাওলানা আবু জার গিফারী।