ঢাকা: বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, “সময়ের পীঠে এপিটাফ রেখে কালের যাত্রায় দ্রুত পেরিয়ে যাচ্ছে দিনক্ষণ। কোটা সংস্কারের ৩৬ দিনের সংশপ্তক আন্দোলন থেকে দুনিয়া কাঁপানো অভাবনীয় ও অবিনাশী গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেওয়া রক্তাক্ত জুলাই বদলে দিয়েছে এ ভূখণ্ডের ঐতিহাসিক স্রোতধারা। জুলাই অভ্যুত্থান ছিল ফ্যাসিবাদ পতনের আগুনজ্বলা অধ্যায়”
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, “জীবন দিয়ে রচিত হয় এক ঐতিহাসিক লড়াই-সংগ্রামের গৌরবময় অধ্যায়, পতন হয় ফ্যাসিবাদের। এই অভ্যুত্থান শুধু একটি সরকারের পতন নয়, বরং গণতন্ত্রের নতুন সূর্যোদয়ের দিগন্ত রেখা।”
রিজভী বলেন, “আওয়ামী লীগের দীর্ঘ স্বৈরাচারী শাসন ও উৎপীড়নের পটভূমিতেই জন্ম নেয় এই গণঅভ্যুত্থান। যাবতীয় ভয়-হুমকি, দমন-পীড়ন অগ্রাহ্য করে ছাত্র-জনতা মৃত্যুঞ্জয়ী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। নাগরিক শক্তির এক অভূতপূর্ব ও দুঃসাহসিক ঐক্য এই অভ্যুত্থানে গড়ে ওঠে, যা উৎখাত করে শেখ হাসিনার দেড় দশকের ভয়ংকর ফ্যাসিবাদী শাসন।”
তিনি বলেন, “গত বছরের জুলাই মাস ইতিহাসের পাতায় উৎকীর্ণ এক দাবানলের মতো। এটি ছিল ন্যায়বিচার, সুশাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ১৬ বছরের সংগ্রামের মাইলফলক। এটি ছিল সময়ের দাবি ও অনিবার্য এক রাজনৈতিক বিস্ফোরণ। মানুষের অধিকার হরণ, স্বপ্ন ভেঙে দেওয়া, বাকস্বাধীনতা হরণ, গুম-খুন-লুটপাট—এসবই এই অভ্যুত্থানের পেছনে জমে থাকা ক্ষোভের জ্বালানি।”
রিজভীর ভাষায়, “ভোটাধিকার হরণ ও নাগরিক মর্যাদা নিপীড়নের মধ্যে মানুষ নিজেদের রাষ্ট্রেই পরবাসী হয়ে পড়েছিল। সেই বঞ্চনার বিরুদ্ধে জুলাইয়ে ছাত্র-জনতা হাতের মুঠোয় প্রাণ নিয়ে রাস্তায় নামে। সেই রক্তাক্ত জুলাই এখন জুলুমবাজ শাসনের বিরুদ্ধে অসম সাহসী ছাত্র-জনতার বীরত্বের স্মারকস্তম্ভ হয়ে আছে।”
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রুহুল কবির রিজভী নির্বাচনের নির্ধারিত তারিখ দ্রুত ঘোষণার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নির্বাচন কমিশন পুরো শিডিউল ঘোষণা করলেও সরকারকে কমপক্ষে একটি তারিখ জানিয়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। না হলে অগণতান্ত্রিক শক্তি আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।
তিনি বলেন, “আমরা বারবার বলে আসছি—নির্বাচনের তারিখ জানান। সরকার অন্তত একটি ডেডলাইন দিক, তৎপর হোক। গণতন্ত্রের চর্চা যদি ব্যাহত হয়, তাহলে ফ্যাসিবাদ মাথা তুলে দাঁড়াবে। আজ সেই চিত্রই আমরা দেখছি।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “শিশু-কিশোর-তরুণদের রক্ত এখনো শুকায়নি। অথচ এর মধ্যেই নানা দিক থেকে ফ্যাসিবাদ উঁকি দিচ্ছে। দেশের ভেতর এবং পার্শ্ববর্তী দেশ থেকেও হুমকি আসছে। ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার করে দেশকে শোষণ করেছে এই ফ্যাসিবাদী দোসররা।”
এ সময় সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের ফেসবুক পোস্ট নিয়ে রিজভী বলেন, “এক-এগারোর পদধ্বনি শুনছি— এ ধরনের পোস্ট দায়িত্বহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সরকার কি জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নিতে চায়? অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে এমন পোস্ট কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
রিজভী আরও বলেন, “রাষ্ট্র চলার স্বাভাবিক গতি স্তব্ধ করে দিয়েছিলো তারা। দেশটাকে পৈত্রিক সম্পত্তি মনে করে জনগণের সম্পদ আত্মসাৎ করেছে। হত্যা ও রক্তপাত তাদের লুটপাটের পথ পরিষ্কার করতেই ঘটেছে।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষ্যে মাসব্যাপী বিএনপির কর্মসূচি পালনের জন্য দলের সকল অঙ্গ সংগঠনকে ধন্যবাদ জানান রিজভী।