ঢাকা: যুদ্ধ বা সংঘাতে মানবিক আইন মেনে চলা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের প্রধান নিকোলাস ফ্লুরি।
তিনি বলেন, ‘সশস্ত্র সংঘাতে ন্যূনতম মানবিকতার মানদণ্ড নির্ধারণ করে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন, যা অবশ্যই মেনে চলা উচিত। যুদ্ধের কারণ বা উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন, এর নিয়ম সব পক্ষের জন্য প্রযোজ্য। এ ছাড়া আমরা ইতিহাসের এমন এক সময়ে আছি যখন যুদ্ধ বা সংঘাত বেড়েই চলেছে। এমন সময়ে সশস্ত্র সংঘাতের আইনের প্রতি আমাদের নজর দেওয়া আগের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।‘
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটিতে ১৬তম হেনরি ডুনান্ট মেমোরিয়াল মুট কোর্ট প্রতিযোগিতার জাতীয় রাউন্ডের উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
আইসিআরসি ও আইইউবির যৌথভাবে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। আইএইচএলের প্রতি আইনের তরুণ শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা ও আগ্রহ তৈরিসহ অ্যাডভোকেসির দক্ষতা বাড়ানোই হচ্ছে এই প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য।
আগামী দুদিন আইএইচএলের ওপর একটি কাল্পনিক কেসস্টাডি বিষয়ে নিজেদের আইনি যুক্তি উপস্থাপন করবেন অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা। যা দেশে আইন শিক্ষার অগ্রগতি ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইন (আইএইচএল) প্রচারের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হবে।
রেড ক্রসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হেনরি ডুনান্টের নামে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার সূচনা হয় ২০০১ সালে। শুরু থেকেই এটি ধারাবাহিকভাবে বিকশিত হয়েছে। বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্ব অন্তর্ভুক্ত করছে। এ বছর অংশগ্রহণকারীরা সশস্ত্র সংঘাত ও মানবাধিকার সম্পর্কিত জটিল আইনি যুক্তি নিয়ে বিতর্কে অংশগ্রহণ করবেন। বিজয়ী দল আগামী বছর হংকং-এ অনুষ্ঠিতব্য এশিয়া-প্যাসিফিক পর্বে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবে।
দুই দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতায় আইনজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞদের সামনে নিজেদের যুক্তি উপস্থাপন করেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ১৭টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৫১ জনের অংশগ্রহণকারী দল। প্রতিযোগিতাটি শিক্ষার্থীদের গবেষণা, বিশ্লেষণ, অ্যাডভোকেসি ও জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার দক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আন্তর্জাতিক মানবিক আইন প্রচার ও সংরক্ষণের জন্য আইসিআরসি নানা উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে। যার মধ্যে হেনরি ডুনান্ট মেমোরিয়াল মুট কোর্ট প্রতিযোগিতা অন্যতম। এর মাধ্যমে আইন শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের মধ্যে আইএইচএল সম্পর্কিত জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। যেন মানবিক নীতিমালা ভবিষ্যত প্রজন্মের মধ্যেও প্রতিষ্ঠিত থাকে।