ঢাকা: বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেছেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরেছে, কর্মচাঞ্চল্যও বেড়েছে। তবে পারিবারিক পর্যায়ের অবস্থার অবনতি হয়েছে। দারিদ্রতা ও বৈষম্য বেড়েছে।
শনিবার (৩০ আগস্ট) ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত মোয়াজ্জেম হোসেন স্মারক বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। প্রয়াত মোয়াজ্জেম হোসেন ইংরেজি দৈনিক দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস-এর সাবেক সম্পাদক এবং ইআরএফ-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।
ড. জাহিদ হোসেন বলেন, এ স্থিতিশীলতার পিছনে নীতির কোন অবদান নেই। তবে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এসেছে। নীতিতে শৃঙ্খলা এসেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, সরকার যা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে- এর সবকিছুই ঠিক।
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণ বিশ্লেষণে তিনি বলেন, অর্থনীতির অস্থিতিশীলতার পেছনে যারা ছিলেন, তারা ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন। দেশ থেকে অর্থ পাচার বন্ধ হয়েছে। ফলে হুন্ডি কমে গেছে, বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আসছে। অন্যদিকে ব্যাংকের লুটপাট বন্ধ হয়েছে। কিন্তু ব্যাংকের প্রকৃত অবস্থার উন্নতি হয়নি, খেলাপি ঋণ বেড়ে গেছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যেসব সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করে, সেগুলো বাংলাদেশের অর্থনীতির পক্ষে গেছে। বিশেষ করে ডলারের দাম কমে যাওয়া উল্লেখযোগ্য।
ড. জাহিদ বলেন, সার্বিকভাবে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশের ফাঁদে আটকে পড়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট, দুর্দশাগ্রস্ত ব্যাংক খাত, লজিস্টিক সিস্টেমের দুর্বলতা, লেবার মার্কেটের উন্নয়ন না হওয়া, প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয় এর অন্যতম কারণ।
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ও সংস্কার সম্পর্কে তিনি বলেন, কিছু ক্ষেত্রে তারা আন্তরিক, কিছু ক্ষেত্রে সাহসী, কিছু ক্ষেত্রে বেচারা, আর কিছু ক্ষেত্রে দিশাহারা। অন্যদিকে রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলেই যে সংস্কার হবে- এর নিশ্চয়তা নেই। সংস্কার করার জন্য রিফর্ম ডেলিভারি ক্যাপাসিটি থাকতে হবে। এক্ষেত্রে উপদেষ্টা পরিষদ, প্রশাসন, ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ও নাগরিক সমাজের যৌথ বা সমন্বিত উদ্যোগ দরকার। এই চারটি পক্ষ যৌথভাবে কাজ না করলে সংস্কার কোথাও না কোথাও আটকে যাবে।
ইআরএফ সভাপতি দৌলত আক্তার মালার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম। ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেস-এর ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য মাহবুবুর রহমান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।