চট্টগ্রাম ব্যুরো: গেল বছর কনটেইনার ওঠা-নামা আগের চেয়ে বাড়লেও বিশ্বের ব্যস্ততম ১০০ বন্দরের তালিকায় এক ধাপ পিছিয়ে গেছে চট্টগ্রাম বন্দর। এবার দেশের সমুদ্র বাণিজ্যের প্রধান খাত এ বন্দর ৬৮তম স্থান পেয়েছে। আগেরবার ৬৭তম অবস্থানে ছিল এ বন্দর।
শনিবার (৩০ আগস্ট) রাতে আন্তর্জাতিক শিপিং ম্যাগাজিন ‘লয়েডস লিস্ট’র প্রকাশিত তালিকায় বিশ্বের ১০০টি ব্যস্ততম বন্দরের মধ্যে এবারও স্থান করে নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর।
প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, ২০২৪ সালের কনটেইনার ওঠা-নামার হিসেব অনুযায়ী চীন এবং সিঙ্গাপুর আগের মতোই প্রথম এবং দ্বিতীয় স্থান দখল রেখেছে। ৫ কোটির বেশি কনটেইনার হ্যান্ডলিং করে চীনের সাংহাই বন্দর প্রথম, ৪ কোটির বেশি কনটেইনার হ্যান্ডলিং করে সিঙ্গাপুর বন্দর দ্বিতীয় স্থানে আছে। আর বাংলাদেশ গতবছর যে ৬৭তম স্থানে ছিল, সেটি এবার দখল করেছে সৌদিআরবের দাম্মাম বন্দর।
২০২৪ সালে চট্টগ্রাম বন্দর ৩২ লাখ ৭৫ হাজার ৬২৭ টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেছে। ২০২৩ সালে করেছিল ৩০ লাখ ৫০ হাজার ৭৯৩ টিইইউস। ২০২২ সালে ছিল ৩১ লাখ ৪২ হাজার ৫০৪ টিইইউস।
২০০৯ সালে ৯৮তম স্থান অর্জন করে প্রথমবারের মতো বিশ্বের প্রভাবশালী বন্দরের তালিকায় প্রবেশ করেছিল চট্টগ্রাম বন্দর।
লয়েডস লিস্টে ২০১০ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ছিল ৮৮। এরপর ২০১১ সালে ৮৯তম, ২০১২ সালে ৯০তম, ২০১৩ সালে ৮৬তম, ২০১৪ সালে ৮৭তম, ২০১৫ সালে ৭৬তম ,২০১৬ সালে ৭১তম, ২০১৭ সালে ৭০তম অবস্থানে পৌঁছেছিল চট্টগ্রাম বন্দর।
২০১৮ সালে কনটেইনার পরিবহনের হিসেব করে ২০১৯ সালে প্রকাশিত তালিকায় বন্দরের অবস্থান ছিল ৬৪ তম। ২০১৯ সালের হিসেবে ২০২০ সালে প্রকাশিত তালিকায় চট্টগ্রাম বন্দর আরও ছয় ধাপ এগিয়ে যায়, বন্দরের অবস্থান হয় ৫৮তম।
২০২০ সালের মার্চ মাস থেকে করোনার প্রভাবে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং কমতে থাকে। আগের বছরের চেয়ে আমদানি-রফতানি পণ্যবাহী ও খালি কনটেইনার পরিবহন কমে ২ লাখ ৪৮ হাজার ২১০ টিইইউস। এর ফলে ২০২১ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান পিছিয়ে ২০১৭ সালের জায়গায় পৌঁছেছিল।
২০২২ সালে ৬৪তম এবং ২০২৩ সালে ৬৭তম অবস্থানে ছিল চট্টগ্রাম বন্দর।