Sunday 31 Aug 2025
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বিএমইউতে রোবোটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার চালু

ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্ট
৩১ আগস্ট ২০২৫ ১৯:০৫ | আপডেট: ৩১ আগস্ট ২০২৫ ১৯:৫৩

বিএমইউতে রোবোটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার চালু হয়েছে। ছবি: সারাবাংলা

ঢাকা: বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পক্ষাঘাতগ্রস্ত ও স্নায়ু রোগীদের জন্য রোবোটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার চালু হয়েছে। রোববার (৩১ আগস্ট) দুপুরে এ কেন্দ্র উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম। ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে চীন এই প্রকল্পে সহায়তা করেছে। এই কেন্দ্র আন্তর্জাতিক মানের সেবা দিতে পারবে। ভবিষ্যতে আরও প্রযুক্তিগত সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

কেন্দ্রটিতে থাকবে মোট ৫৭টি উন্নত মানের রোবট, যার মধ্যে ২২টিই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন (এআই)। মূলত পক্ষাঘাতগ্রস্ত, দীর্ঘমেয়াদি সমস্যায় ভোগা ও পুনর্বাসনের প্রয়োজন রয়েছে- এমন রোগীদের চিকিৎসা ও থেরাপির জন্য ব্যবহার হবে এসব রোবট।

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বক্তব্যে বলেন, গণঅভ্যুত্থানসহ নানা দুর্ঘটনায় আহত অনেক রোগীকে এতোদিন উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হতো। এখন সেই সেবা দেশেই পাওয়া যাবে। এক্ষেত্রে চীনের অবদান অনস্বীকার্য।’

চীনের অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহায়তা

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য সচিব সাইদুর রহমান জানান, চীন সরকারের পক্ষ থেকে যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই সেন্টার আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির এক নতুন যুগের সূচনা করবে। রোবটিক সাপোর্টের মাধ্যমে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের কার্যক্রম আরও দক্ষ ও মানসম্পন্ন হবে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত উন্নয়নে চীন সরকার সব ধরনের সহায়তা করে যাবে। সম্প্রতি বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রোগীদের, বিশেষ করে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসায় চীন অতি দ্রুত সহায়তা প্রদান করেছে।

তিনি বলেন, চীনে বাংলাদেশিরা যাতে স্বল্প খরচে উন্নত চিকিৎসা সেবা পান, সেই ব্যবস্থা নিয়েছে চীন সরকার। সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের উন্নয়নেও সহায়তা অব্যাহত রেখেছে। বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে ভবিষ্যতে এ সহায়তা অব্যাহত রাখবে চীন।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস চীন সফর করায় তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের চিকিৎসাখাতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি স্থানান্তরে বা আনয়নে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় একটি গুরুত্বপূর্ণ হাব হয়ে ওঠবে। এখান থেকেই বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসমূহ দেশের সর্বত্র চিকিৎসাখাতে ছড়িয়ে পড়বে বলে আমরা প্রত্যাশা রাখি।

সভাপতির বক্তব্যে বিএমইউ’র উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আজ একটা ঐতিহাসিক দিন। রোবোটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার উদ্বোধনের মাধ্যমে দেশে এআই ভিত্তিক চিকিৎসাসেবা শুরু হলো। এই সেন্টারকে ‘ট্রেনিং অব দ্য ট্রেনার্স’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। বিএমইউকে স্মার্ট ও এআই ভিত্তিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনীসহ রোবোটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারের কার্যক্রম বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুস শাকুর। পরে রোবোটিক রিহ্যাবিলিটেশন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী চিকিৎসক, ফিজিওথেরাপিস্টদের মাঝে সার্টিফিকেট বিতরণ করেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর, বিএমইউ’র প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) ও রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার ইমপ্লিমেন্টেশন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার, বিএমইউ’র বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যানবৃন্দ ও বিভিন্ন বিভাগের পরিচালকবৃন্দ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অফিস প্রধানগণ, ফিজিক্যাল মেডিসিন এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের শিক্ষক, চিকিৎসকবৃন্দ, রেসিডেন্টসহ আরও অনেকে।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিএমইউ’র রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম ও সহকারী প্রক্টর ডা. রিফাত রহমান।

সারাবাংলা/একে/এসএস

চালু বিএমইউ রিহ্যাবিলিটেশন রোবোটিক সেন্টার