Thursday 01 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

নীলক্ষেতে ব্যালট ছাপানোর বিষয় ঢাবি প্রশাসনকে অবহিত করা হয়নি: উপাচার্য

ঢাবি করেসপন্ডেন্ট
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৪:২১ | আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৫:০৭

সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান।

ঢাবি: গত ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনের ব্যালট অরক্ষিতভাবে নীলক্ষেতে ছাপানোসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে ডাকসু নির্বাচন কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে। তবে নীলক্ষেতে ব্যালট ছাপানোর তথ্যটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে উক্ত সহযোগী ভেন্ডর অবহিত করেনি বলে দাবি করেছেন উপাচার্য।

রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনিক ভবনস্থ অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাস রুমে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে অসঙ্গতি ও ব্যালট পেপার সংক্রান্ত অভিযোগের জবাব দিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন তিনি।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান এক লিখিত বক্তব্যে বলেন, এরই মধ্যে আমরা জানিয়েছিলাম সমস্ত নিয়ম মেনে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে একটি অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানকে ব্যালট পেপার ছাপানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। রেকর্ড সংখ্যক ভোটার ও প্রার্থীর বিবেচনায় দ্রুততম সময়ে নির্ধারিত পরিমাণ ব্যালট ছাপানোর স্বার্থে আমাদের মূল ভেন্ডরের সঙ্গে আলোচনা করে সমযোগ্য একটি সহযোগী/অ্যাসোসিয়েট প্রতিষ্ঠানকে একই টেন্ডারের অধীনে কাজে সম্পৃক্ত করার অনুমতি দেয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, নীলক্ষেতে ২২ রিম কাগজ দিয়ে ৮৮ হাজার ব্যালট ছাপানোও হয়। যা থেকে প্রিন্টিং, কাটিং, প্রি-স্ক্যান পর্ব শেষে নির্দিষ্ট পরিমাণে ব্যালট প্যাকেটে সিলগালা করে ৮৬ হাজার ২৪৩টি ব্যালট সরবরাহযোগ্য করা হয় এবং অতিরিক্ত ব্যালটগুলো প্রচলিত পদ্ধতিতে নষ্ট করে ফেলা হয়। ভেন্ডর আরও জানায় যে, নীলক্ষেতে কাটিং শেষে প্রি-স্ক্যান ও পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য তারা তাদের মূল অফিসে এনে প্রি-স্ক্যান সম্পন্ন করে নির্দিষ্ট পরিমাণে প্যাকেটে ভরে সিলগালা করে বিশ্ববিদ্যালয়কে সরবরাহ করে। তারা আরও জানায় যে, তারা ব্যালট প্রস্তুতকরণ প্রক্রিয়ায় ও আনা নেওয়ায় চুক্তি মোতাবেক সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। ব্যস্ততার কারণে কর্তৃপক্ষকে তারা নীলক্ষেতে ব্যালট প্রিন্টিং ও কাটিংয়ের বিষয়টি জানাতে ভুলে যায় বলে স্বীকার করে।

উপাচার্য বলেন, ‘ব্যালট পেপার ছাপানোর স্থান বা সংখ্যা সুষ্ঠু নির্বাচনকে কোনোভাবে প্রভাবিত করে না। কারণ, ব্যালট পেপার ভোটের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত করতে কয়েকটি ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। ব্যালট পেপারটি ছাপানোর পর তা নির্দিষ্ট পরিমাপে কাটিং করতে হয়। তারপর সুরক্ষা কোড আরোপ করে ওএমআর মেশিনে প্রি-স্ক্যান করে তা মেশিনে পাঠযোগ্য হিসেবে প্রস্তুত করতে হয়। এরপর চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তার সীলসহ সই ও কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার সইযুক্ত হলেই তা ভোট গ্রহণের জন্য উপযুক্ত হয়।’

ব্যালট পেপারের হিসাব জানিয়ে উপাচার্য বলেন, কার্যাদেশ অনুযায়ী, উপরোক্ত প্রক্রিয়ায় চূড়ান্তভাবে ২ লাখ ৩৯ হাজার ২৪৪টি ব্যালট ভোট গ্রহণের জন্য প্রস্তুত করা হয়। মোট ভোটার ৩৯ হাজার ৮৭৪ ভোটার প্রতি ৬টি ব্যালট। মোট ভোট দিয়েছেন ২৯ হাজার ৮২১ জন ভোটার। মোট ব্যালট ব্যবহার করা হয়েছে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯২৬টি। অবশিষ্ট ব্যালট ৬০ হাজার ৩১৮।

শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে ঢাবি উপাচার্য বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষাপটে সিসিটিভি ফুটেজ এবং ভোটারদের সই করা তালিকার বিষয়টি আবার সামনে এসেছে। এ বিষয়ে এরই মধ্যে আমরা বিস্তারিত জানিয়েছি যে, কোনো প্রার্থী যদি সুনির্দিষ্ট কোনো সময়ের একটি প্রাসঙ্গিক ঘটনা পর্যালোচনা করার জন্য সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চান তারা যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করলে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক নির্ধারিত স্থানে তা দেখতে বা পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, ভোটারদের সইযুক্ত ভোটার তালিকা দেখানোর বিষয়ে আমরা পুনরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞ আইনজীবীদের সঙ্গে অধিকতর আলোচনা করেছি। এ বিষয়ে তাদের পরামর্শগুলো হচ্ছে- কোনো প্রার্থী যদি নির্দিষ্ট ও যৌক্তিক কারণে নির্দিষ্ট কারো সই পর্যবেক্ষণ করতে চায় সেক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করলে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক মনোনীত বিশেষজ্ঞ বা ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে দেখানো যেতে পারে।

সারাবাংলা/কেকে/এনজে
বিজ্ঞাপন

নতুন বছরের ‘প্রপোজ’?
১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:০৪

খালেদা জিয়া স্মরণে
১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:৩৩

আরো

সম্পর্কিত খবর