ঢাকা: বিশ্বের প্রধান দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ঢাকার নাম এখন আর নতুন নয়। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সকালে আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠান IQAir-এর লাইভ র্যাঙ্কিং অনুযায়ী ঢাকার US AQI⁺ ছিল ২৯৩, যা বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দূষিত শহর হিসেবে চিহ্নিত করে। দিল্লির ঠিক পরেই এই অবস্থান।
ঢাকা, একসময় যা ছিল ছিলেন মসজিদের শহর, সংস্কৃতির শহর; এখন বিশ্ববাসীর কাছে পরিচিত হচ্ছে ধোঁয়াশা, ধূলা, যানজট আর শ্বাসকষ্টের নগরী হিসেবে।
AQI মাত্রা ২৯৩— যা অস্বাস্থ্যকর (Very Unhealthy) শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত অর্থ এই মাত্রায় দীর্ঘ সময় বাতাসে থাকলে সুস্থ মানুষও ঝুঁকিতে পড়ে; শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী নারী ও কোমরবিডিটির রোগীদের জন্য আরও বিপজ্জনক।
ঢাকার বায়ু দূষণের প্রধান কয়েকটি উৎস হলো:
১. নির্মাণকাজের ধূলা: নগরজুড়ে সড়ক, ভবন ও মেট্রোর বিস্তৃত নির্মাণকাজের ধূলা বাতাসকে ভারী করে তুলছে। পর্যাপ্ত পানি ছিটানো বা ধূলানিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির অভাব পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ করছে।
২. ইটভাটা: ঢাকার চারপাশে শত শত অবৈধ ও অতিরিক্ত দূষণকারী ইটভাটা শীতকালে বায়ুদূষণের সবচেয়ে বড় উৎসগুলোর একটি।
৩. যানবাহনের ধোঁয়া: পুরোনো, রক্ষণাবেক্ষণহীন গাড়ি এবং নিম্নমানের জ্বালানি—বায়ুর মান দ্রুত খারাপ করার অন্যতম কারণ। যানজট বাড়লে নির্গমনও বাড়ে।
৪. শিল্পকারখানার নির্গমন: শহরের ভেতরে ও উপকণ্ঠের শিল্পাঞ্চল যথাযথ পরিশোধন যন্ত্র ছাড়াই ধোঁয়া আকাশে ছড়ায়।
৫. মৌসুমী কারণ: শীতকালে বাতাসের গতি কমে যায়, ফলে বায়ুমণ্ডলে দূষণ ছড়িয়ে যেতে পারে না— ঢাকাজুড়ে সৃষ্টি হয় ধোঁয়াশার ছায়া।
বায়ুদূষণ এখন ঢাকাবাসীর দৈনন্দিন জীবনের অংশ। শিশুদের হাঁপানি ও নিউমোনিয়া বাড়ছে, বয়স্কদের হৃদরোগ ও ফুসফুসজনিত জটিলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্বব্যাপী গবেষণা বলছে, বায়ুদূষণ শুধু অস্থায়ী অসুস্থতা নয়— আয়ুষ্কাল কমিয়ে দেয়, দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারসহ নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
শীতের সকালে অফিসগামীরা প্রায়ই বলেন, “মুখে মাস্ক না পরলে বুক জ্বালা করে, চোখে পানি আসে।”
গণপরিবহন শ্রমিকরা জানান, “একটু ব্যস্ত রাস্তায় দাঁড়ালেই শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বায়ুদূষণ রোধে আমাদের কয়েকটি পদক্ষেপ নিতে হবে:
- নির্মাণসাইটে বাধ্যতামূলক ধুলানিয়ন্ত্রণে পানি ছিটানো, সাইট ঢেকে রাখা এবং পরিবেশবান্ধব নির্মাণ পদ্ধতি নিশ্চিত করতে হবে।
- ইটভাটা আধুনিকায়ন ও নিয়ন্ত্রণে জিগ-জ্যাগ বা অটোমেটেড পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি বাধ্যতামূলক করা।
- যানবাহনের নির্গমন কমাতে পুরোনো গাড়ি নিষিদ্ধ, গণপরিবহন উন্নয়ন ও ইলেকট্রিক বাস চালু করা।
- শহরের বিভিন্ন স্থানে AQI মনিটরিং বাড়ানো ও তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা প্রচার গুরুত্বপূর্ণ।
- বৃক্ষরোপণ ও খোলা জায়গা সংরক্ষণ শহরের শ্বাস-প্রশ্বাস ফিরে পেতে সহায়তা করতে পারে।