Saturday 29 Nov 2025
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

কৃষিতে ভালো করেছি, বিপ্লব হয়নি: আমীর খসরু

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২৯ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:২০

ঢাকা: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, কৃষি পণ্যের দাম নির্ধারণ করে দিয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠান বোকার কাজ করছে। বাজারকে বাজারের মতো চলতে দেওয়া উচিত। কৃষিতে ভালো করেছি, কিন্তু বিপ্লব হয়নি। শস্য খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অঞ্চলভিত্তিক ম্যাপিং করতে হবে। খাদ্য আমদানি নির্ভরতা কমাতে না পারলে বৈশ্বিক রাজনীতির শিকার হতে হবে। দেশে অনেক সংস্কার হয় কিন্তু জনগণ ফল পায়না। কৃষকের পণ্যের দাম নির্ধারণ করে দেওয়া নির্বুদ্ধিতা।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ কৃষি সাংবাদিক ফোরাম (বিএজেএফ) আয়োজিত ৪ দিনব্যাপি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের তৃতীয় দিনের ‘কৃষি ও খাদ্যে রাজনৈতিক অঙ্গীকার’ শীর্ষক সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

বিএজেএফের সাধারণ সম্পাদক আবু খালিদের সঞ্চালনায় এতে সভাপতিত্ব করেন বিএজেএফ সভাপতি সাহানোয়ার সাইদ শাহীন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, কৃষির বিশাল পরিবর্তন হচ্ছে। কৃষিতেও বিপ্লব সম্ভব। জিয়াউর রহমানের স্লোগান ছিল উৎপাদনের রাজনীতি। তখন বিদেশে চাল রফতানি হয়েছে। কৃষির সর্বোচ্চ উৎপাদন নিশ্চিত করতে সরকার বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এই মাটিতে অনেক কিছু হয়। যা আমরা করতে পারি না। সব কিছু মিলে এলায়েন্স করতে পারলে এগ্রিকালচারে রেভ্যুলেশন আনতে পারব।

তিনি বলেন, কৃষি খাতে নীতি আছে, কিন্তু নীতি বাস্তবায়ন করার মানুষ কম। অনেক সংস্কার হয়, কিন্তু কৃষক এর সুফল পায় না। কৃষকের ফসল পঁচে নষ্ট নয়। এটিকে প্রক্রিয়াজাত করতে হবে। কৃষিতে বিনিয়োগ দরকার। প্রযুক্তির উন্নয়ন দরকার।

আমীর খসরু বলেন, দেশে এখনও সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান কৃষিতে। কৃষিই দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। ১৮ মাসে আমরা এক কোটি কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি, সেটির অন্যতম একটি খাত কৃষি।

কৃষির অঞ্চলভিত্তিক ম্যাপিং দরকার উল্লেখ করে আমীর খসরু বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে কৃষি। কোন অঞ্চলে কোন ফসল উৎপাদন করব, বাংলাদেশের কৃষিতে তার একটি ম্যাপিং দরকার। যেখানে যে সম্ভাবনা আছে, সেই সম্ভাবনা খুজে বের করব এবং অবকাঠামোর উন্নয়ন ঘটাব।

খাদ্য আমদানি নির্ভরতা কমাতে না পারলে বৈশ্বিক রাজনীতির শিকার হতে হবে মন্তব্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, খাদ্যে বিদেশের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে হবে। কারণ অনেক দেশ হঠাৎ করে কোন একটি পণ্যের রফতানি বন্ধ করে দেয়। আবার কোন একটি পণ্যে ট্যারিফ আরোপ করে। এ কারণে খাদ্যে বিদেশ নির্ভরতা কমাতে হবে।

তিনি বলেন, শুধু কৃষক নয়, গ্রাম-গঞ্জের কামার-কুমার, তারা ভালো দাম পায় না। কৃষকসহ সর্বক্ষেত্রে ইন্ট্রিগ্রেশন করতে হবে। কৃষিপণ্যের বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে আমাদের সংযোগ ঘটাতে হবে। কৃষককে সাহায্য করতে চাইলে অন্যভাবে সাপোর্ট দিতে হবে। কিন্তু কৃষি পণ্যের দাম নির্ধারণ করে দেওয়া বোকামি সিদ্ধান্ত।

খসরু বলেন, আমরা বিরোধী দলে থাকলেও দেশের উন্নয়নে আমাদের কথা চলতে থাকবে। যতো রিফর্ম হয়েছে বিএনপির সময় হয়েছে। বিএনপি অব্যাহত থাকলে প্রবৃদ্ধি এতোদিনে ডাবল ডিজিট হয়ে যেতো।

তিনি বলেন,আমরা সহনশীল আচরণ করছি। দেশে গণতান্ত্রিক সরকার না থাকলে দেশ আগাবেনা৷ তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে জিয়াউর রহমান দেশের কৃষিকে রফতানির দিকে নিয়ে গেছেন৷ পল্লী বিদ্যুৎ গ্রামে নিয়ে গেছেন সেচের জন্যে। জিয়াউর রহমানের সময় চাল রফতানি হয়েছে। আমরা নির্বাচিত হলে দেশের কৃষিকে এগিয়ে নেবো।

প্রাণ আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিইও আহসান খান চৌধুরী বলেন, কৃষিতে ব্যাপক পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে। নতুবা দেশের উন্নয়ন ঘটবে না। মাছ ও মুরগি উৎপাদন আরও বাড়াতে হবে। হর্টিকালচারে আমাদের উৎপাদন বাড়াতে হবে। তবে হর্টিকালচারে আমরা চীনের সহায়তা নিতে পারি। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে যতো ধরণের পরামর্শ আছে সেগুলো দিতে হবে এবং সেই অনুযায়ী কাজ করতে হবে। আমার ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করব, কেনা-বেচার ক্ষেত্রে আমরা পরিমিত লাভ করব। আমরা যদি পরিমিত লাভ না করি তাহলে আপনারা (সাংবাদিক) ধরিয়ে দেবেন। এভাবেই সবার সহযোগিতায় দেশের কৃষি খাতকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাব।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের কৃষিকে নেদারল্যান্ডের মতো করতে হবে। বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডের কৃষিতে যে গ্যাপ তা আমাদের কমাতে হবে। মাছের উৎপাদন ব্যয় কমাতে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করছি। খাদ্য ও আমিষে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে কৃষিতে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন।

প্রসঙ্গত, চার দিনব্যাপী এ সম্মেলনের কো-স্পন্সর আস্থা ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। সহযোগী হিসেবে রয়েছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, লাল তীর সিডস লিমিটেড, ওয়ার্ল্ড পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন–বাংলাদেশ ব্রাঞ্চ, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, বন অধিদফতর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, মৎস্য অধিদফতর ও প্রাণিসম্পদ অধিদফতর।

সারাবাংলা/ইএইচটি/এসএস
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর