Thursday 01 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সমাপ্ত বছরে ৩৩ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স সংগ্রহের রেকর্ড

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:২৪

-ফাইল ছবি : প্রতীকী

ঢাকা: সদ্য বিদায়ী পঞ্জিকা বছরে এ যাবৎ কালের সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আয় পেয়েছে দেশ। এর পরিমাণ ৩২ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ছাড়িয়েছে। এর আগের বছর ছিল ২৬ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে এক বছরে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে ৫ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন (প্রায় ৬ বিলিয়ন) বা ২২ দশমিক ১০ শতাংশ। আর ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে প্রবাসীরা বেশি রেমিট্যান্স পাঠান ৪ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার। এতে করোনার পরে রিজার্ভে ব্যাপক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বিরাজ করছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বিগত পতিত সরকারের সময় ব্যাংক খাতে অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ পাচার হয়। এর পরিমাণ ২৮ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। আর এই পাচারের নেপথ্যে ছিল রমরমা হুন্ডি। এমনকি হুন্ডির কবলে রেমিট্যান্স পথে আটকে যাওয়ায় একক মাস হিসাবে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স আসে মাত্র ১৫৩ কোটি (১ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন) ডলার। তখন জনসংখ্যা রফতানি বাড়লেও কমে যায় প্রবাসী আয়। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিষয়টি উপলব্ধি করে হুন্ডি বন্ধে ব্যাপক উদ্যোগ নেয়। এতে ব্যাংকিং চ্যানেলে মাসের পর মাস রেমিট্যান্স বাড়তে থাকে। সেই সঙ্গে ২০২৪ সালে সরকার বদলের পর আস্থা বাড়ে প্রবাসীদের। তারা বেশি করে রেমিট্যান্স পাঠাতে থাকে। এ ধারাবাহিকতায় গত ডিসেম্বরে রেমিট্যান্স আসে ২ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলার। যা স্বাধীনতার পর একক মাসে হিসাবে দ্বিতীয় রেকর্ড। এর আগে গত মার্চ মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্সের রেকর্ড ছিল ৩ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার। আর রেমিট্যান্স বাড়ায় রিজার্ভ বেড়ে ৩৩ দশমিক ৩২ বিলিয়নে পৌঁছে। এটি করানোর পর সর্বোচ্চ রিজার্ভের রেকর্ড।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী ২০২৫ সালের রেমিট্যান্স আসে ৩২ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার। আর ২০২৪ সালে তা ছিল ২৬ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ডলার, ২০২৩ সাল ছিল ২১ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলার, ২০২২ সালে ছিল ২১ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার। আর করোনার বছর রেমিট্যান্স সংগ্রহের পরিমাণ ছিল ২১ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার। সেই বছর আগস্টে রিজার্ভ ছিল ৪৮ দশমিক শূন্য বিলিয়ন। এরপর রিজার্ভ কমতে কমতে আওয়ামী লীগ সরকারে পতনের সময় রিজার্ভ ২২ বিলিয়নে নেমে যায়। তখন ব্যয়যোগ্য রিজার্ভ ছিল মাত্র ১৩ বিলিয়ন, যা নিয়ে ভীতিকর বার্তা পায় মানুষ।

বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, অর্থ পাচারের কারণে এদিকে দেশের রেমিট্যান্স কাঙ্ক্ষিত হারে বাড়ে নি। পাচারকারীরা বিদেশে রেমিট্যান্সের ডলার কিনে পাচার করেছে। আর বাংলাদেশে তা টাকায় পরিশোধ করছে। তাই রেমিট্যান্স বাড়াতে হলে হুন্ডির তৎপরতা থামাতে হবে। অর্থ পাচার কমায় রেমিট্যান্সে জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে মাসভিত্তিক রেমিট্যান্স এসেছে গত জানুয়ারি মাসে রেমিট্যান্স আসে ২ দশমিক ১৯ বিলিয়ন, ফেব্রুয়ারিতে ২ দশমিক ৫২ বিলিয়ন, মার্চে ৩ দশমিক ৩০ বিলিয়ন, এপ্রিলে ২ দশমিক ১৪ বিলিয়ন, মে মাসে ২ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন, জুনে ২ দশমিক ৮২ বিলিয়ন, জুলাইতে ২ ৪৭ বিলিয়ন, আগস্টে, ২ দশমিক ৪২ বিলিয়ন, সেপ্টেম্বরে ২ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন, অক্টোবরে ২ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন, নভেম্বরে ২ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন এবং ডিসেম্বরে ৩ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, রেমিট্যান্স বাড়াতে আগের নগদ প্রণোদনা অব্যাহত রয়েছে। আর অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর অবস্থানের ফলে হুন্ডি প্রবণতা কমে যায় এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানো ব্যাপক হারে বেড়েছে। সম্প্রতি প্রবাসীদের আস্থা বেড়েছে। ডলার বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার বিক্রি না করে এখনো কেনা অব্যাহত রেখেছে। তবে ডলারের বাজারের স্থিতিশীলতায় রেমিট্যান্সের একটি বিশাল ভূমিকা রয়েছে। আর রিজার্ভ বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা পুরো অর্থনীতির জন্য শুভ বার্তা।

সারাবাংলা/এসএ/এসআর