যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে বেঁচে থাকাই যেখানে বড় ব্যাপার, খেলাধুলা সেখানে নেহায়েতই তুচ্ছ। কঠিন এই পরিস্থিতির মধ্যেও আফ্রিকান কান অফ নেশনসের নকআউট পর্বে উঠেছে সুদান। শেষ ১৬তে সেনেগালের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে সুদানের কোচ কোয়েসি আপিয়ার বলছেন, শেষ ৮ এ উঠে দেশের যুদ্ধ বন্ধের উপলক্ষ তৈরি করতে চায় তার দল।
তিন বছর ধরে নিজেদের মাটিতে খেলতে পারেনি সুদান জাতীয় ফুটবল দল। এবারের আফকনে অংশ নিয়েও খুব বেশিদূর যাওয়ার স্বপ্ন ছিল না। গ্রুপ পর্বে মাত্র এক ম্যাচ জিতলেও সব গ্রুপের সেরা তৃতীয় দলের একটি হয়ে ৫৬ বছর পর টুর্নামেন্টের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে সুদান।
১৯৭০ সালে এই প্রতিযোগিতায় নিজেদের একমাত্র শিরোপা জিতেছিল সুদান। তারপর থেকে এবারের আগে তারা নকআউট পর্বে উঠতে পেরেছিল শুধু ২০১২ আসরে। সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছিল দলটি।
তিন বছর ধরে সুদানে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় ব্যাহত হয়েছে ফুটবলের বিকাশ। এসবের মধ্যেও আফকনে এমন পারফর্ম করা দল নিয়ে আশাবাদী কোচ আপিয়ার, ‘বেশিরভাগ সময় আমি এই প্রশ্নগুলো এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি, কারণ অনুভূতিগুলো ভয়াবহ। এটা এমন কিছু নয়, যা নিয়ে আমরা কথা বলতে চাই। তবে আমরা আশা করছি যে, যদি আমরা জিতি তাহলে তা হয়তো যুদ্ধ-পরিস্থিতিকে শান্ত করবে, এমনকি যুদ্ধ থামিয়ে দেবে। এর আগে একটি ম্যাচ হয়েছিল যেখানে আমরা জিতেছিলাম (বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে), তখন সেনাবাহিনী তাদের বন্দুক নামিয়ে রেখেছিল এবং সবাই উদযাপন করছিল। ফুটবল এই পৃথিবীর অনেক কিছু বদলে দিতে পারে।’
কোচের মতো সুদান অধিনায়ক বাখিত খামিসও ফুটবলের সাফল্য দিয়ে দেশের পরিস্থিতি উন্নতির আশায় আছেন, ‘আপনারা সবাই জানেন, দেশের বাইরে খেলা এবং এমন পরিস্থিতিতে খেলা চালিয়ে যাওয়া খুবই কঠিন। পরিবার থেকে দূরে, বাড়ি থেকে দূরে থাকা আমাদের জন্য খুবই কঠিন। আমরা এই পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করছি, আমাদের ভক্তদের খুশি করার চেষ্টা করছি এবং আশা করি, পরিস্থিতি ভালো হবে। মাঠে আমরা যা করছি, তা আমাদের দেশের মানুষের জন্য পরিস্থিতি আরও ভালো করার প্রচেষ্টা।’