Saturday 03 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

আনিসুল ইসলাম মাহমুদের প্রার্থিতা বাতিল

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:১০ | আপডেট: ৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:৫৬

আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।

চট্টগ্রাম ব্যুরো: জাতীয় পার্টির একাংশের সভাপতি ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের দাখিল করা মনোনয়ন পত্র অবৈধ ঘোষণা করেছেন নির্বাচন কর্মকর্তা। এর ফলে আনিসুলের প্রার্থিতা বাতিল হলো, যদিও আপিলের সুযোগ আছে।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও নগরীর একাংশ) আসনের মনোনয়ন পত্র যাচাইবাছাই শেষে আনিসুলেরটি বাতিলের ঘোষণা দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়া উদ্দিন।

মনোনয়ন পত্র বাছাইয়ের পর একই আসনের আরও দুইজনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। তারা হলেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক উপ কোষাধ্যক্ষ এসএম ফজলুল হক এবং সাবেক হুইপ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা। তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছিলেন।

বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হেদায়েত উল্যাহ জানিয়েছেন, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ মনোনয়ন পত্রের সঙ্গে দলীয় মনোনয়নের যে চিঠি জমা দিয়েছেন, তার স্বাক্ষরের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো দলীয়ভাবে পাঠানো মনোনয়নের তালিকায় স্বাক্ষরের গরমিল পাওয়া গেছে। আর ফজলুল হক ও সাকিলা ফারজানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এক শতাংশ ভোটারের যে সই জমা দিয়েছেন তাতে গরমিল পাওয়া গেছে।

চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও নগরীর একাংশ) আসনে বিএনপির মনোনীত মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনসহ মোট ১০ জন মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছিলেন। এস এম ফজলুল হক ও সাকিলা ফারজানা বিএনপি থেকে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছিলেন।

আর ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বামপন্থী ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে এসে ১৯৭৯ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরশাদের আমলে তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে দুই দফায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরশাদের মন্ত্রীসভার সদস্য হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন। এরশাদের পতনের পর দীর্ঘসময় রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় থাকেন। ২০০৭ সালে এক-এগারো পরবর্তী সময়ে তিনি আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হন।

২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চার দফা সংসদ নির্বাচনে চারবারই তিনি জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মহাজোটের সংসদ সদস্য হিসেবে একবার তিনি পানিসম্পদ মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির মূলধারা থেকে বের হয়ে আনিসুল ইসলাম মাহমুদসহ কয়েকজন নেতা সম্প্রতি আলাদা দল গড়েছেন। গত ৮ ডিসেম্বর আনিসুল ইসলাম মাহমুদের জাতীয় পার্টি এবং আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর জাতীয় পার্টি-জেপির নেতৃত্বে ২০টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) নামের একটি জোটের আত্মপ্রকাশ হয়।

গত ২৩ ডিসেম্বর আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এনডিএফ’র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছিলেন। একইদিন ‘জুলাইযোদ্ধা’ পরিচয়ে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. ওমর ফারুক জাতীয় পার্টির নেতা ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে গ্রেফতারের জন্য নগর পুলিশ কমিশনার ও জেলা পুলিশ সুপারের কাছে আলাদা আবেদন করেন। এতে তিনি আনিসুল ইসলাম মাহমুদের বিরুদ্ধে জেলার হাটহাজারী থানায় ২টি এবং নগরীর কোতোয়ালী ও ডবলমুরিং থানায় ২টিসহ মোট ৪টি মামলার কথা উল্লেখ করে তাকে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানান।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর