Monday 05 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

গত বছর সৌদি আরবে সাড়ে ৭ লাখ কর্মী পাঠানোর রেকর্ড

ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্ট
৩ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:০৮ | আপডেট: ৩ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:০৮

ঢাকা: বিদায়ী ২০২৫ সালে সৌদি আরবে মোট ৭ লাখ ৫০ হাজারের বেশি কর্মী পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। এটাই এখন এক বছরে কোনো একক দেশে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জনশক্তি প্রেরণের রেকর্ড।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বর্তমানে প্রায় ৩৫ লাখ বাংলাদেশি সৌদি আরবে বসবাস ও কাজ করছেন। তারা প্রতি বছর দেশে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠান। ১৯৭০–এর দশক থেকে বাংলাদেশিরা সৌদি শ্রমবাজারে যুক্ত হচ্ছেন এবং বর্তমানে তারা দেশটিতে সর্ববৃহৎ প্রবাসী জনগোষ্ঠী। গত বছরও বাংলাদেশি কর্মীদের প্রধান গন্তব্য হিসেবে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে সৌদি আরব। ২০২৫ সালে বিদেশে যাওয়া মোট ১১ লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মীর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সৌদি আরবকে বেছে নিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

বিএমইটি’র অতিরিক্ত মহাপরিচালক আশরাফ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, গত বছর ৭ লাখ ৫০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি অভিবাসী সৌদি আরবে গেছেন। কোনো নির্দিষ্ট বছরে সৌদি আরব বা অন্য কোনো দেশে এত বেশি কর্মী আগে পাঠানো হয়নি।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় গত বছর ১৬ শতাংশ বেশি কর্মী সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছেন। ওই বছরে প্রায় ৬ লাখ ২৮ হাজার বাংলাদেশি কাজের জন্য সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।

২০২৩ সালে বাংলাদেশে স্কিল ভেরিফিকেশন প্রোগ্রাম চালু করে সৌদি আরব। এরপর থেকে বাংলাদেশ সরকার দেশটিতে আরও বেশি দক্ষ কর্মী পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এ কর্মসূচির লক্ষ্য সৌদি শ্রমবাজারে কর্মীদের পেশাগত দক্ষতা উন্নত করা।

এ ছাড়া বাংলাদেশে সার্টিফিকেশন সেন্টারের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে, যাতে আরও বেশি কর্মীকে কম সময়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ যাচাই করতে পারে।আশরাফ হোসেন বলেন, এখন আমাদের লক্ষ্য নিরাপদ, দক্ষ ও নিয়মিত অভিবাসন বৃদ্ধি করা। গত এক বছরে সৌদি আরবে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি বেড়েছে। মাত্র তিন থেকে চার মাস আগেও আমরা মাসে এক হাজার দক্ষ কর্মীকে সার্টিফাই করতে পারতাম। এখন সারা দেশে ২৮টি (সৌদি অনুমোদিত) কেন্দ্রের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে, যা মাসে প্রায় ৬০ হাজার দক্ষ কর্মীকে সৌদি শ্রমবাজারের জন্য সার্টিফাই করতে সক্ষম।

গত বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) থেকে বিএমইটি খনিশিল্পে প্রশিক্ষণ প্রদান শুরু করেছে। সৌদি আরবের এই খাতেও দক্ষ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ। আশরাফ হোসেন বলেন, সৌদি আরব একটি তেলসমৃদ্ধ দেশ হওয়ায় সেখানে দক্ষ খনি শ্রমিকের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আমরা সৌদি শ্রমবাজারের জন্য প্রকৃত অর্থেই দক্ষ কর্মী তৈরির চেষ্টা করছি।

গত অক্টোবরে সৌদি আরব ও বাংলাদেশ একটি নতুন কর্মসংস্থান চুক্তি সই করে, যার মাধ্যমে কর্মীদের সুরক্ষা, মজুরি পরিশোধ, কল্যাণ ও স্বাস্থ্যসেবা আরও জোরদার করা হয়েছে। এই চুক্তির ফলে নির্মাণ খাত ও সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০–এর বড় প্রকল্পগুলোতে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৬ সালে সৌদি আরবে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সর্বোচ্চ ৩ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

সারাবাংলা/একে/এসআর
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর