রংপুর: তীব্র শীত এবং ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপে গত ৩ দিনে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন আরও ১৪২১ জন রোগী। এই বিপর্যয় উত্তরাঞ্চলের জনজীবনকে স্থবির করে দিয়েছে, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে। হাসপাতালের মেডিসিন এবং শিশু ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান রোববার এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ঠান্ডাজনিত রোগ যেমন নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট এবং ডায়রিয়ার ঘটনা দ্রুত বাড়ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশু এবং বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, রংপুর বিভাগে ঠান্ডাজনিত মৃত্যুর হার দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অনেক বেশি। এর মূল কারণ হিসেবে দারিদ্র্য এবং ভৌগোলিক অবস্থানের কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বিশ্লেষণে রংপুরে মৃত্যুর সংখ্যা অন্যান্য জেলার তুলনায় সর্বোচ্চ ছিল। হিমালয়ের কোল্ড ফ্রন্টের প্রভাবে ঘটে এসব মারাত্মক ঘটনা ঘটছে। শুধুমাত্র ২০২৩-২৪ সালের শীতে উত্তরাঞ্চলে অনুরূপ সংকটে ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছিলেন প্রায় আড়াই লাখ মানুষ।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুসারে, রোববার সকালে বিভাগে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে: রংপুর ১২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, তেতুলিয়া (পঞ্চগড়) ১১.০, সৈয়দপুর ১১.৮, রাজারহাট ১১.০, দিনাজপুর ১১.৬, ডিমলা (নীলফামারী) ১২.০, ঠাকুরগাঁও ১১.৮, লালমনিরহাট ১২.০ এবং গাইবান্ধা ১২.১ ডিগ্রি (সকাল ৯টা পর্যন্ত)।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মোস্তাফিজার রহমান জানিয়েছেন, রংপুর বিভাগ হিমালয়ের কাছাকাছি হওয়ার কারণে এখানে শীতের তীব্রতা অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে বেশি। গত তিন দিন ধরে বরফশীতল হাওয়া এবং ঘন কুয়াশা চলছে, যা রাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, কিন্তু দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকবে। দিন-রাতের তাপমাত্রার ব্যবধান কমে যাওয়ায় শীতের অনুভূতি আরও প্রকট হচ্ছে।’
আগামী ৫ দিন এই অঞ্চলে ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানান তিনি।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এমন কোল্ড ওয়েভের তীব্রতা বাড়ছে, যা ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে সর্বোচ্চ মৃত্যু ঘটায়।
এদিকে তীব্র শীতে বিপাকে পড়েছেন তিস্তা, ধরলা এবং যমুনা নদী অববাহিকার চরাঞ্চলের নিম্ন আয়ের মানুষজন।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া জানিয়েছেন, শীতের কষ্ট লাঘবে ইতিমধ্যে ১২ হাজার ৫০০ কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ৮টি উপজেলায় শীতবস্ত্র সংগ্রহের জন্য ৪৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।