রংপুর: রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫ জন প্রার্থী, যাদের মধ্যে আয় ও সম্পদে এগিয়ে আছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) মনোনীত প্রার্থী আনিছুল ইসলাম মণ্ডল। তার বার্ষিক আয় ১৬ লাখ টাকার বেশি এবং মোট সম্পদ ১১ কোটি টাকার ওপরে। এরপর রয়েছেন বিএনপির মোহাম্মদ আলী সরকার, তার সম্পদ ৫২ লাখ টাকার বেশি। তবে আয় ও সম্পদের দিক থেকে পিছিয়ে আছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, তার বার্ষিক আয় ৮৫ হাজার টাকা এবং সম্পদ ১ কোটি ২০ লাখ টাকা।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
আসনটিতে জামায়াত, বিএনপি এবং জাতীয় পার্টির মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের উত্তাপ বাড়িয়েছে। হলফনামা অনুযায়ী, জাতীয় পার্টির প্রার্থী আনিছুল ইসলাম মণ্ডলের ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় ১৬ লাখ ৩২ হাজার ১৪০ টাকা। তার নগদ অর্থ ১ কোটি ৩৮ লাখ ২৮ হাজার ৪৫৪ টাকা, ব্যাংকে জমা ৩ হাজার ১২ টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার জিপগাড়ি, ১৬ হাজার টাকার শেয়ার, ৫০ ভরি সোনা, ৭৫ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য এবং ৬৫ হাজার টাকার আসবাবপত্র। স্থাবর সম্পদ হিসেবে ১১.৮৫ একর কৃষিজমি, ২.৮২ একর অকৃষি জমি, একটি বাণিজ্যিক ভবন এবং একটি বাড়ির অর্জনকালীন মূল্য ৮ কোটি ৪৭ লাখ ৭৮ হাজার ৩৩০ টাকা। ২০২৫ সালের আয়কর রিটার্নে তার আয় ১৬ লাখ ৩২ হাজার ১৪০ টাকা এবং মোট সম্পদ ১১ কোটি ৯০ লাখ ২৬ হাজার ২২৮ টাকা। নিজের বা পরিবারের কোনো ঋণ বা দায় নেই। আনিছুল ২০০৮ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে জয়ী হয়েছিলেন।
বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আলী সরকারের পেশা কৃষি ও ব্যবসা। কৃষি থেকে তার বার্ষিক আয় ১০ লাখ টাকা। অস্থাবর সম্পদে নগদ ৩ লাখ টাকা, ব্যাংকে ২ হাজার টাকা, একটি মাইক্রোবাস। তার বর্তমান অস্থাবর সম্পদের মূল্য ২৬ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। স্ত্রীর নামে ১০ লাখ টাকার ডিপোজিট, ২১ ভরি সোনা (মূল্য ২১ লাখ ৬০ হাজার টাকা) এবং ছেলের নামে ১ লাখ টাকার মোটরসাইকেল। স্থাবর সম্পদে পৈতৃক ১৫ একর কৃষিজমি, বাড়ি ও মৎস্য খামারের মূল্য ২ কোটি ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। স্ত্রীর নামে ৪৭ শতক কৃষিজমি (মূল্য ৫ লাখ টাকা)। নির্ভরশীলদের মধ্যে ছেলের ৩৭ শতক, মেয়ের ৩৫ শতক এবং নিজের ৯৭ শতক কৃষিজমির মূল্য উল্লেখ না করা হলেও, সবশেষ আয়কর রিটার্নে সম্পদ ৫২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৯৯ টাকা এবং আয়কর ৩ হাজার টাকা। কোনো ঋণ নেই। মোহাম্মদ আলী সরকার ২০০১ সালে এই আসন থেকে জাতীয় পার্টি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন, পরে বিএনপিতে যোগ দেন।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এটিএম আজহারুল ইসলামের কৃষি থেকে বার্ষিক আয় ৩০ হাজার টাকা এবং দলীয় ভাতা ৫৫ হাজার টাকা। ইবনে সিনায় ৪৭৬টি শেয়ারের মূল্য ৪ হাজার ৭৬০ টাকা, কিন্তু আয় উল্লেখ নেই। ২০২৫ সালের আয়কর রিটার্নে আয় ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬৬ টাকা। অস্থাবর সম্পদে নগদ ৪৫ হাজার টাকা, ব্যাংকে ৯ লাখ ১৩ হাজার ২৮৬ টাকা, ইবনে সিনায় শেয়ারের মূল্য ১ লাখ ৪৮ হাজার ৯৪০ টাকা এবং ৪৫ হাজার টাকার আসবাবপত্র। স্থাবর সম্পদে উত্তরাধিকারসূত্রে ৪ বিঘা কৃষিজমি, ১০ শতক অকৃষি জমি, বদরগঞ্জের বালুয়াঘাটে দুটি টিনশেড বাড়ি—মোট মূল্য ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। তার নামে ১৬টি ফৌজদারি মামলা ছিল। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি এই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এবং আনিছুলের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন।
আসনটিতে মোট ১৩ জনের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে, তবে নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন, মূল লড়াই ত্রিমুখী বলে মনে করা হচ্ছে। এ আসনটি ঐতিহাসিকভাবে জাতীয় পার্টির দখলে ছিল, যেখানে ২০০৮ সালে আনিছুল জয়ী হন। এবার প্রার্থীরা প্রতিশ্রুতি দিয়ে উধাও না হওয়ার আশ্বাস দিচ্ছেন, যা ভোটারদের মধ্যে নতুন উত্তাপ যোগ করেছে।