রংপুর: বছরের শুরুতেই রংপুরের চালের বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে চিনিগুড়া আতপ চালের দাম কেজিতে ২০ থেকে ২৫ টাকা বেড়ে ১২০-১২৫ টাকায় পৌঁছেছে। অন্যান্য জাতের চালের দামও কেজিতে ২ থেকে ৪ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে; এতে স্থানীয় ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আমন মৌসুমের ধান কাটা-মাড়াই শুরুর পর দাম কমার প্রত্যাশা থাকলেও উলটো প্রতিদিনই দাম বাড়ছে, এর পেছনে অটো রাইস মিল মালিকদের মজুদ এবং সিন্ডিকেটের কারসাজি দায়ী বলে অভিযোগ উঠেছে।
মাহিগঞ্জ বাজারসহ রংপুরের বিভিন্ন খুচরা ও পাইকারি বাজারে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক দিন আগেও চিনিগুড়া আতপ চাল ৯৫-১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছিল। এখন তা ১২০-১২৫ টাকায় উঠেছে। মিনিকেট চালের দাম ৬৮-৭০ টাকা থেকে বেড়ে ৭২-৭৫ টাকা হয়েছে, যা কেজিতে ৩-৪ টাকা বৃদ্ধি। ব্রি-২৮ জাতের চাল ৫৬-৬০ টাকা, ব্রি-২৯ ৫২-৫৫ টাকা, স্বর্ণা জাতের আমন চাল ৪৪-৫০ টাকা এবং মাঝারি মানের চিকন চাল ৭০-৭২ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ভালো মানের চিকন চাল যেমন নাজিরশাইল ও জিরাশাইলের দাম আরও বেশি।

স্থানীয় আড়তদার আওয়াল মিয়া জানান, ডিসেম্বরে ব্যাংক ক্লোজিংয়ের সময় বাজার কিছুটা মন্দা থাকায় দাম সাময়িকভাবে কমেছিল। কিন্তু চাহিদা বাড়ায় এখন সব জাতের চালের দাম বেড়েছে। বোরো মৌসুমের ধান শেষের দিকে হওয়ায় বোরো জাতীয় চালের দাম বেশি বেড়েছে, যখন আমন মৌসুম চলছে। তবে চিনিগুড়া আতপ চালের দামে সবচেয়ে বড় লাফ দেখা যাচ্ছে।
পাইকারি ব্যবসায়ীরা মনে করেন, এর পেছনে কারসাজি রয়েছে। ছোট হাসকিং মিলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বড় অটো রাইস মিল মালিকরা কম দামে ধান কিনে মজুদ করছেন এবং নানা অজুহাতে দাম বাড়াচ্ছেন। উত্তরাঞ্চলের প্রায় ৬০০ অটো রাইস মিল এভাবে মজুদের পাহাড় গড়ে তুলে দাম নিয়ন্ত্রণ করছে। এছাড়া বড় কৃষকরা ধান ঘরে রেখে বাজারে না ছাড়ায় কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে বাজারে মোটা চাল ৫৫-৫৬ টাকা, মাঝারি ৬০-৬৫ টাকা এবং সূক্ষ্ম চাল ৭০-৯২ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতা ও খুচরা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, হাতে গোনা কয়েকটি অটো রাইস মিল ও মজুদদাররা বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে।