ঢাকা: বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া একটি ‘অনন্য নাম’ হিসেবে অভিহিত করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছরের একদলীয় শাসনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে দেশের মানুষের কথা বলার অধিকার ফিরিয়ে আনতে তিনি যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জিয়া উদ্যানে প্রয়াত নেত্রীর কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও মোনাজাত শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন অ্যাগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (অ্যাব) পক্ষ থেকে বেগম জিয়ার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ড. মঈন খান বলেন, নব্বইয়ের দশকের সংসদীয় অধিবেশনে দাঁড়িয়ে তিনি বেগম খালেদা জিয়াকে ‘মহীয়সী নারী’ হিসেবে সম্বোধন করেছিলেন, যা আজ সময়ের কষ্টিপাথরে প্রমাণিত। একজন সাধারণ গৃহবধূ থেকে কোটি কোটি মানুষের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি রাজপথে নেমে এসেছিলেন এবং নিজের পুরো জীবনকে বাংলাদেশের মানুষের জন্য উৎসর্গ করেছেন।
মঈন খান অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অনেক নেতৃত্ব ব্যক্তিগত বা দলীয় সুযোগ-সুবিধার জন্য আপস করলেও খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীনতার মূর্ত প্রতীক। নিজের জীবন ও সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যকে তুচ্ছ জ্ঞান করে তিনি কেবল দেশের স্বার্থ এবং গণতন্ত্রের স্বার্থকে সবার ওপরে স্থান দিয়েছেন।
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা আরও বলেন, খালেদা জিয়া কখনও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে ড্রয়িংরুমের রাজনীতি করেননি, বরং তার রাজনীতির ভিত্তি ছিল সাধারণ মানুষের কাতারে।
আশির দশকের সামরিক শাসনের সময় তার ওপর হওয়া অমানুষিক নির্যাতন ও অত্যাচারের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, বন্দুকের শক্তিতে নয়, বরং জনগণের শক্তিকে সম্বল করেই তিনি সেই স্বৈরাচারী শাসনকে হটিয়ে এ দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণ ঘটিয়েছিলেন। জনগণের অধিকার আদায়ে তার এই দীর্ঘ সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ বর্তমান প্রজন্মের রাজনৈতিক কর্মীদের জন্য এক আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বেগম জিয়ার আদর্শকে ধারণ করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।