বেনাপোল: যশোর জেলার মনিরামপুরে প্রকাশ্যে গুলি করে বরফকল ব্যবসায়ী রানা প্রতাপ বৈরাগীকে (৩৮) হত্যা করা হয়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬ টার দিকে উপজেলার কপালিয়া বাজারে তাকে গুলি করে সন্ত্রাসীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
নিহত ব্যক্তির নাম রানা প্রতাপ বৈরাগী (৩৮)। তিনি যশোরের কেশবপুর উপজেলার আড়ুয়া গ্রামের তুষার কান্তি বৈরাগীর ছেলে। মনিরামপুরের কপালিয়া বাজারে তার একটি বরফ তৈরির কারখানা রয়েছে। কেশবপুর কাটাখালি মৎস্য আড়ৎ সমিতির সভাপতি ছিলেন। এ ছাড়া তিনি নড়াইল থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক বিডি খবর’ নামের একটি পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় রানা প্রতাপ কপালিয়া বাজারে অবস্থান করছিলেন। এ সময় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা জনাকীর্ণ বাজারে খুব কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করার আগেই তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনার পরপরই কপালিয়া বাজার এবং আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে মনিরামপুর থানা থেকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
পুলিশ জানায়, খবর পেযে দ্রুত মনিরামপুর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। রানা প্রতাপের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহ যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের পরপরই ঘাতকদের ধরতে আশপাশের এলাকায় তল্লাশি ও অভিযান শুরু করে পুলিশের ও গোয়েন্দা সংস্থা। পুলিশের তদন্তে দেখা গেছে, রানা প্রতাপ অভয়নগর উপজেলার নোয়াপাড়ার সাবেক শ্রমিক নেতা অলিয়ার রহমান হত্যার চার্জশীটভুক্ত আসামি ছিলেন।
মনিরামপুর থানার ওসি রজিউল্লাহ খান বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে রয়েছি। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। হত্যার প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি। পেশাগত বিরোধ, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব বা অন্য কোনো শত্রুতা থাকতে পারে। সব দিক বিবেচনায় নিয়ে ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে।’
এক দিনের ব্যবধানেই যশোরে দ্বিতীয় খুন এটি। গত ৩ জানুয়ারি যশোর শহরের শংকরপুরে চলন্ত মোটরসাইকেলে থাকা স্থানীয় বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে গুলি করা হয়। ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মনিরামপুর উপজেলায় আবারও গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।