ঢাকা: দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ, লোকসানি ও লভ্যাংশ না দেওয়া কোম্পানিগুলোকে স্টক একচেঞ্জের মূল বোর্ড থেকে সরিয়ে আলাদা প্ল্যাটফর্মে নেওয়ার সুপারিশ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত একটি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি। প্রস্তাবিত এই নতুন প্ল্যাটফর্মের নাম দেওয়া হয়েছে ‘আর’ ক্যাটাগরি। পুঁজিবাজারে দুর্বল মৌলভিত্তি সম্পন্ন শেয়ার ঘিরে অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি ও কারসাজি ঠেকাতেই এই উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। যদিও আগে থেকেই এই ধরনের কোম্পানির জন্য ‘জেড’ ক্যাটাগরি নামের একটি পৃথক ক্যাটাগরি আগে থেকেই ছিল। শাস্তি হিসেবে কোম্পানিগুলোকে এই ক্যাটাগরিতে পাঠানো হতো।
বিএসইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
তথ্য মতে, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের কমিটি গত নভেম্বরে প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে পুঁজিবাজারে তারল্য বাড়াতে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
কমিটির প্রস্তাব অনুযায়ী, ‘আর’ ক্যাটাগরির শেয়ারে লেনদেনে থাকবে কঠোর বিধিনিষেধ। এসব শেয়ার কেনার পর অন্তত এক মাস বিক্রি করা যাবে না। পাশাপাশি লেনদেন নিষ্পত্তির সময়ও বাড়িয়ে সাত দিন করার সুপারিশ করা হয়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বিএসইসি এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে দ্রুত এসব নিয়ম বাস্তবায়নের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ডিএসই-তে ৩৯৭টি তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে ২০৫টি ‘এ’, ৮২টি ‘বি’ এবং ১১০টি ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে। কমিটি মনে করছে, ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে থাকা অনেক কোম্পানি বছরের পর বছর বন্ধ থাকলেও মাঝেমধ্যেই এগুলোর দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়। বর্তমানে অন্তত ৩২টি কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন বন্ধ রেখেছে।
কমিটির মতে, এসব কোম্পানির জন্য একটি সুশৃঙ্খল ‘এক্সিট প্ল্যান’ প্রয়োজন। নতুন আর-ক্যাটাগরি চালু হলে মূল বাজারে স্থিতিশীলতা বাড়বে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।