Wednesday 07 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশৃঙ্খলার বিষয়ে নাগরিকদের উদ্বেগে গুরুত্ব দিতে হবে: ড. দেবপ্রিয়

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:৩২ | আপডেট: ৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:১৪

ড .দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য – ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশৃঙ্খলা, ডিজিটাল সুরক্ষা আইনের বিষয়ে নাগরিকদের উদ্বেগগুলো আরও জোরদারভাবে সরকারের কাছে যেমন নিতে হবে, আগামী দিনে যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চান তাদের কাছেও এই দাবিটা জোরদারভাবে নিতে হবে। যদি এটা নিয়ে ওনারা কার্যকরভাবে কাজ না করেন, তাহলে ২০২৪ সালের আগস্টের মতো আবার দেশ ছেড়ে পালানোর মতো ঘটনা ঘটতে পারে।’

এমন মন্তব্য করেছেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। ‘গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের জন্য মুক্ত আলোচনা: ডিজিটাল অর্থনীতি ও উদ্যোক্তা প্রসঙ্গ’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)। সিজিএসের প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আবদুল মজিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম জাহিদ, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের স্কুল অব বিজনেসের ডিন এম এ বাকী খলীলী।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান সবুর খান, রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিকারকদের সংগঠন বারভিডার সাবেক সভাপতি আবদুল হক, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রির (বিসিআই) সাবেক সভাপতি শাহেদুল ইসলাম হেলাল, ঢাকা চেম্বারের (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি। এ ছাড়া সিটি ব্যাংকের অ্যাসোসিয়েট রিলেশনশিপ ম্যানেজার তানহা কেট, উদ্যোক্তা আবিদা সুলতানা ও তাজমিন নাসরিন এবং সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী বক্তব্য দেন।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বড় ধরনের নৈরাজ্যমূলক বিশৃঙ্খলা ও বিভাজন সৃষ্টিকারী একটি উপাদান হতে পারে। ইতোমধ্যে সে লক্ষণ দেখা গেছে। এটি নিয়ন্ত্রণ করা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে সরকার, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে পর্যাপ্ত সচেতনতা বা কার্যকর উদ্যোগ আমি এখনো দেখছি না।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এগুলো নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ বা সক্ষমতা, এমন কী সদিচ্ছাও দেখা যাচ্ছে না। নারীদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ভুয়া তথ্য—এসব নিয়ন্ত্রণে সরকার বা নির্বাচন কমিশনের কার্যকর ভূমিকা অনুপস্থিত। কিছু ক্ষেত্রে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে যে ছোটখাটো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেগুলোকে ফলপ্রসূ করার ক্ষেত্রেও নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দিক থেকে কোনো উদ্যোগ এখন পর্যন্ত দেখছি না।’

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে ডিজিটাল অর্থনীতি দ্রুত বিকাশমান হলেও এই খাতে এখনো নীতিগত অস্পষ্টতা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, উচ্চ ব্যান্ডউইথ ব্যয়, ডিজিটাল বৈষম্য ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে জবাবদিহির অভাবসহ নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের জন্য মুক্ত আলোচনা: ডিজিটাল অর্থনীতি ও উদ্যোক্তা প্রসঙ্গ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নৈরাজ্যমূলক কাজের বিষয়ে গত ডিসেম্বরে সরকারের পক্ষ থেকে মেটাকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। আমি মনে করি, এটি একটি সঠিক পদক্ষেপ। তবে মেটার বাংলাদেশে অফিস নেই, ভাষাগত সীমাবদ্ধতাও আছে। তবু রাজনৈতিক সহিংসতা, বিদ্বেষ ও ঘৃণা নিয়ন্ত্রণে এ বিষয়ে আরও জোরদার পদক্ষেপ প্রয়োজন।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইতিবাচকভাবে ব্যবহারেরও সুযোগ ছিল বলে মনে করেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘ভোটার তালিকা, ভোটকেন্দ্র, অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি, ভোট গণনার স্বচ্ছতা—এসব বিষয়ে পরিষ্কার তথ্য দেওয়ার সুযোগ ছিল। সেটিও করা হচ্ছে না। উদ্বেগের জায়গা এতটাই গভীর যে নাগরিকেরা দায়িত্বশীল নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন। একই সঙ্গে তাঁরা এটাও মনে করেন, গণতন্ত্র ছাড়া নিয়ন্ত্রণ বিপজ্জনক হতে পারে। নেপালের অভিজ্ঞতা আমাদের তা মনে করিয়ে দেয়।’

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশৃঙ্খলা, ডিজিটাল সুরক্ষা আইনের বিষয়ে নাগরিকদের উদ্বেগগুলো আরও জোরদারভাবে সরকারের কাছে যেমন নিতে হবে, আগামী দিনে যাঁরা রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চান তাঁদের কাছেও এই দাবিটা জোরদারভাবে নিতে হবে। যদি এটা নিয়ে ওনারা কার্যকরভাবে কাজ না করেন, তাহলে ২০২৪ সালের আগস্টের মতো আবার দেশ ছেড়ে পালানোর মতো ঘটনা ঘটতে পারে।’

সিজিএস প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান বলেন, ‘দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনীতি, সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা, রাজনীতি, গণতন্ত্র—কোনোটার জন্যই কল্যাণকর নয়। মেরুকরণ ও বিভাজনের যে রাজনীতি আমরা এখন প্যাট্রোনাইজ করছি। আমি বলব যে রাষ্ট্র আসলে এটাকে প্যাট্রোনাইজ করছে। সেখান থেকে আমরা কীভাবে বেরোব, সেটা নিয়ে আমার মধ্যে যথেষ্ট সংশয় আছে।’

জিল্লুর রহমান আরও বলেন, ‘আমরা সহিষ্ণুতা ও সহমর্মিতার কথা বলি বটে, তবে বাংলাদেশ সেখান থেকে অনেক পেছনে সরে যাচ্ছে। এই সংকটগুলো যদি মোকাবিলা না করি, তাতে নির্বাচন হয়তো আমরা করতে পারব, তবে মুক্তি মিলবে কি না, সেটা নিয়ে যথেষ্ট সংশয়ের সুযোগ রয়েছে।

সারাবাংলা/একে/এসআর
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর