ঢাকা: আবাসন ও রিয়েল এস্টেট খাতে নির্মাণ সামগ্রীর বর্তমান বাজারমূল্য প্রতিফলন এবং ক্রমবর্ধমান আবাসন চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে গ্রাহক অর্থায়নের জন্য প্রুডেন্সিয়াল রেগুলেশনের ২৩ নম্বর প্রবিধান সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং নিয়ন্ত্রণ ও নীতি বিভাগ-১ এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, আগে জারি করা বিআরপিডি সার্কুলার নং–০৭ (৩ নভেম্বর ২০০৪) এবং বিআরপিডি সার্কুলার লেটার নং–২৫ (১৯ নভেম্বর ২০১৯) পর্যালোচনা করে আবাসন অর্থায়নের সীমা ও শর্তে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
সংশোধিত প্রবিধান অনুযায়ী, হাউজিং ফাইন্যান্সে শ্রেণিবদ্ধ ঋণের হার বিবেচনায় প্রতি গ্রাহকের জন্য সর্বোচ্চ অর্থায়ন সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো ব্যাংকের হাউজিং ফাইন্যান্সে শ্রেণিবদ্ধ ঋণ মোট বকেয়ার ৫ শতাংশ বা তার কম হলে প্রতি পক্ষ সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত গৃহায়ন ঋণ দিতে পারবে। শ্রেণিবদ্ধ ঋণের হার ৫ শতাংশের বেশি কিন্তু ১০ শতাংশের কম বা সমান হলে সর্বোচ্চ সীমা হবে ৩০ লাখ টাকা। আর শ্রেণিবদ্ধ ঋণের হার ১০ শতাংশের বেশি হলে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত গৃহায়ন অর্থায়ন করা যাবে।
এছাড়া গৃহায়ন অর্থায়ন সুবিধা সর্বোচ্চ ৭০:৩০ ঋণ-ইকুইটি অনুপাতে প্রদান করতে হবে। অর্থাৎ, ঋণগ্রহীতাকে অন্তত ৩০ শতাংশ নিজস্ব বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যাংককে নিশ্চিত করতে হবে যে, ঋণগ্রহীতার ঋণ পরিশোধের সময়সূচী অনুযায়ী ঋণ পরিশোধের জন্য পর্যাপ্ত নেট নগদ প্রবাহ রয়েছে।
সার্কুলারে আরও জানানো হয়েছে, সংশোধিত এই নির্দেশনার ফলে বিআরপিডি সার্কুলার নং–০৭/২০০৪ এবং পরবর্তীতে ক্যাপশনযুক্ত বিষয়ে জারি করা সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে অন্যান্য বিদ্যমান নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর সংশোধিত ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ সিদ্ধান্ত আবাসন খাতে অর্থায়নকে আরও বাস্তবসম্মত ও ঝুঁকিভিত্তিক করতে সহায়ক হবে।