ঢাকা: চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় নিত্যপণ্যের এলসি খোলা বেড়েছে ১০ দশমিক ৬৪ শতাংশ। তবে এলসি নিষ্পত্তি হওয়া কমেছে শূন্য দশমিক ৮৩ শতাংশ। একই সাথে শিল্পের কাচামাল আমদানিতে এলসি খোলা ও নিষ্পত্তি বেড়েছে শূন্য দশমিক ৪২ শতাংশ এবং মূলধনি যন্ত্রপাতির এলসি খোলা বেড়েছে ৩২ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) ভোগ্যপণ্যের ঋণপত্র বা এলসি খোলা হয়েছিল ২৫৮ কোটি ২৬ লাখ ডলারের। আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে ভোগ্যপণ্যের এলসি খোলা হয়েছে ২৮৫ কোটি ৪৭ লাখ ডলারের। সেই হিসাবে চলতি অর্থ বছরের প্রথম পাঁচ মাসে গত বছরের একই সময়ে তুলনায় এলসি খোলা বেড়েছে ২৭ কোটি ৪৪ লাখ ডলারের।
আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) ভোগ্যপণ্যের ঋণপত্র বা এলসি নিষ্পত্তি হয়েছিল ২৪৩ কোটি ৪১ লাখ ডলারের। আর চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে ভোগ্যপণ্যের এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে ২৪১ কোটি ৪০ লাখ ডলারের। সেই হিসাবে চলতি অর্থ বছরের প্রথম পাঁচ মাসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ কোটি ৯ লাখ ডলারের এলসি কম নিষ্পত্তি হয়েছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিগত সরকারের আমলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধরে রাখতে কমগুরুত্বপূর্ণ ও বিলাসী পণ্যের আমদানি নিয়ন্ত্রণ করেছিল। এখন যেহেতু প্রবাসী আয় বেড়েছে এবং ডলার সংকট কিছুটা কমেছে তাই এলসির ক্ষেত্রে ছাড় দিতে হবে যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানিতে নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।
এদিকে ভোগ্যপণ্য আমদানিতে এলসি বাড়ার সাথে শিল্পের কাঁচামালের এলসি খোলা এবং নিষ্পত্তিও বেড়েছে শূন্য দশমিক ৪২ শতাংশ ও শূন্য দশমিক ৪২ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) শিল্পের কাঁচামাল আমদানির জন্য ঋণপত্র বা এলসি খোলা হয়েছিল ১ হাজার ২৫ কোটি ৬৪ লাখ ডলারের। আর চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে শিল্পের কাঁচামালের এলসি খোলা হয়েছে ১ হাজার ২৯ কোটি ৯৪ লাখ ডলারের। সেই হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ কোটি ২৯ লাখ ডলারের এলসি বেশি খোলা হয়েছে।
প্রতিবেদন বলছে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) শিল্পের কাঁচামাল আমদানির জন্য ঋণপত্র বা এলসি নিষ্পত্তি হয়েছিল ৯৬৫ কোটি ৪০ লাখ ডলারের। আর চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে শিল্পের কাঁচামাল আমদানির জন্য এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে ৯৬৯ কোটি ৪৩ লাখ ডলারের। সেই হিসাবে চলতি বছরের প্রথম দশ মাসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ কোটি ৩৬ লাখ ডলারের এলসি বেশি নিষ্পত্তি হয়েছে।
তবে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য এলসি খোলা ৩২ দশমিক ২২ শতাংশ। তবে এলসি নিষ্পত্তি কমেছে ১৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য ঋণপত্র বা এলসি খোলা হয়েছিল ৬৮ কোটি ৯০ লাখ ডলারের। আর চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে ৯১ কোটি ১০ লাখ ডলারের। সেই হিসাবে চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির এলসি খোলা বেড়েছে ২২ কোটি ২ লাখ ডলারের।
আর গত অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির এলসি নিষ্পত্তি হয়েছিল ৮৯ কোটি ৫৭ লাখ ডলারের। আর চলতি অর্থবছরের একই সময়ে এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে ৭৪ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের। সেই হিসাবে চলতি বছরের প্রথম দশ মাসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য খোলা এলসি নিষ্পত্তি কম হয়েছে ১৫ কোটি ২ লাখ ডলারের।