ঢাকা: নির্বাচনী হলফনামায় নাহিদ ইসলামের আয় ও সম্পদ সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে নাহিদ ইসলাম দাবি করেছেন, তার আয়–সম্পদের তথ্য সম্পূর্ণ আইনসম্মত, স্বচ্ছ ও যাচাইযোগ্য হলেও সেগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
পোস্টে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাৎসরিক আয় নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে তা ভুল ধারণার ওপর ভিত্তি করে। নির্বাচনী হলফনামায় উল্লেখিত ১৬ লাখ টাকা কোনো নির্দিষ্ট চাকরি ছাড়ার পর হঠাৎ অর্জিত আয় নয়; বরং এটি ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরের (১ জুলাই থেকে পরবর্তী বছরের ৩০ জুন) মোট আয়ের হিসাব। এই অর্থবছরের প্রায় সাত মাস তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সে সময় রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্ধারিত বেতন–ভাতা পেয়েছেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১৬ লাখ টাকার মধ্যে প্রায় ১১ লাখ টাকা এসেছে উপদেষ্টা হিসেবে প্রাপ্ত বেতন ও ভাতা থেকে, যা ব্যাংক চ্যানেলের মাধ্যমে পরিশোধিত, আয়করযোগ্য এবং সম্পূর্ণ নথিভুক্ত। বাকি অর্থ এসেছে উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগের পর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কনসালটেন্ট হিসেবে বৈধ পেশাগত কাজের সম্মানী থেকে, যারও সুস্পষ্ট কর হিসাব রয়েছে।
মোট সম্পদ প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম জানান, তার ঘোষিত মোট সম্পদের পরিমাণ ৩২ লাখ টাকা। এটি কোনো এক বছরের আয় নয়, বরং তার প্রায় ২৭ বছরের জীবনের সঞ্চয়ের সমষ্টি। এই সম্পদের মধ্যে রয়েছে উপদেষ্টা পদের বেতন থেকে সঞ্চয়, পূর্ববর্তী সেভিংস, পারিবারিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে পাওয়া উপহার, স্বর্ণালংকার, ফার্নিচার এবং ইলেকট্রনিক পণ্যের মূল্য। পাশাপাশি উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগের পর আয়কর পরিশোধিত আয়ের অংশও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি দাবি করেন, হলফনামায় কেবলমাত্র সত্য ও নির্ভুল তথ্যই উপস্থাপন করা হয়েছে।
ব্যাংক হিসাব ঘিরে ছড়ানো তথ্যকেও অপপ্রচার বলে উল্লেখ করেছেন নাহিদ ইসলাম। তিনি জানান, উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগের সময় তার ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১০ হাজার টাকা ছিল, যা সে সময়ের অবশিষ্ট নগদ অর্থ—মোট সম্পদের প্রতিফলন নয়। পরবর্তীতে মন্ত্রীদের আসবাবপত্র ক্রয়ের জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দ অর্থ একই হিসাবে জমা হওয়ায় ব্যালেন্স বৃদ্ধি পায়, যা হলফনামায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। বর্তমানে তার মাত্র দুটি ব্যাংক হিসাব রয়েছে—একটি সোনালী ব্যাংকে এবং অন্যটি নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের জন্য ২৮ ডিসেম্বর সিটি ব্যাংকে খোলা। এর বাইরে তার কোনো ব্যাংক হিসাব নেই বলেও তিনি জানান।
এছাড়া, উপদেষ্টা পদে থাকা অবস্থায় তার কোনো জমি, ফ্ল্যাট বা গাড়ি ছিল না এবং পদত্যাগের পরেও এমন কোনো সম্পদ অর্জিত হয়নি—এই তথ্যও হলফনামায় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে বলে পোস্টে বলা হয়।
পেশা সংক্রান্ত বিভ্রান্তির বিষয়েও ব্যাখ্যা দেন নাহিদ ইসলাম। তিনি জানান, হলফনামার কোথাও তার পেশা হিসেবে শিক্ষকতা উল্লেখ করা হয়নি। তার পূর্ববর্তী পেশা ছিল সরকারের উপদেষ্টা এবং বর্তমানে তিনি কনসালট্যান্সি পেশায় যুক্ত। তিনি একটি টেক ফার্মে স্ট্র্যাটেজিক ও পলিসি সিদ্ধান্তে পরামর্শ দিয়ে থাকেন, যার নাম নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা নথিতেই উল্লেখ আছে। প্রতিষ্ঠানটি কোনো সরকারি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত নয় এবং তার যুক্ত থাকার কারণে কখনোই কোনো সরকারি সুবিধা পায়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, তার আয় ও সম্পদ সংক্রান্ত প্রতিটি তথ্য আয়কর রিটার্ন ও নির্বাচনী হলফনামার মাধ্যমে আইনগতভাবে যাচাইযোগ্য। উপদেষ্টা পদে থাকা অবস্থার আয়, পদত্যাগের পর পেশাগত আয় এবং জীবনের সামগ্রিক সম্পদ—সবকিছু আলাদা করে, স্বচ্ছভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু এসব পৃথক ক্যাটাগরিকে ইচ্ছাকৃতভাবে গুলিয়ে দিয়ে একটি অসৎ রাজনৈতিক বয়ান তৈরির চেষ্টা চলছে।
পোস্টের শেষাংশে তিনি মন্তব্য করেন, সীমিত সম্পদ ও স্বচ্ছ আয়ের ঘোষণা প্রমাণ করে যে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার বা অবৈধ সম্পদ সঞ্চয়ের রাজনীতির বাইরে থেকেই দায়িত্ব পালন করেছেন। অথচ এই স্বচ্ছতাই আজ তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার ভাষায়, “এই দেশে সত্য বলা অনেক সময় অপরাধে পরিণত হয়। যত বেশি স্বচ্ছতা দেখানো হয়, তত বেশি কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়।”