বাগেরহাট: রিসোর্ট মালিকসহ দুই পর্যটক অপহরণকারী মাসুম বাহিনীর প্রধান মাসুম মৃধা (২৩) ও তার সহযোগী মো. ইফাজ ফকির (২৫)-কে আটক করেছে কোস্টগার্ড। তাদের কাছ তিনটি দেশীয় পাইপগান, আট রাউন্ড কার্তুজ, একটি চাইনিজ কুড়াল, দুটি দেশীয় কুড়াল, একটি দা, একটি স্টিল পাইপ ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও জিম্মি পর্যটকদের পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং একটি হাতঘড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তরের অপারেশন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আবরার হাসান এক প্রেস ব্রিফিং করে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে কয়েকটি দস্যু দল বনজ সম্পদ লুণ্ঠন, জেলে ও বনজীবীদের অপহরণসহ নানা অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তাদের কর্মকাণ্ডে পর্যটন শিল্প, বাস্তুসংস্থান এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তার উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
গত ২ জানুয়ারি শুক্রবার সুন্দরবনের গোলকানন রিসোর্ট হতে কানুরখাল সংলগ্ন এলাকায় কাঠের বোটে করে ভ্রমণকালে ডাকাত মাসুম বাহিনী দুই পর্যটকসহ গোলকানন রিসোর্টের মালিককে জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করে। রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি কোস্টগার্ডকে অবগত করলে কোস্টগার্ড যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। গোয়েন্দা তথ্য, ড্রোন নজরদারি ও ফিনান্সিয়াল ট্রেসিং ব্যবহার করে টানা ৪৮ ঘণ্টা অভিযানের পর জিম্মিকৃত পর্যটক ও রিসোর্ট মালিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় দস্যু চক্রের সদস্য কুদ্দুস হাওলাদার (৪৩), মো. সালাম বক্স (২৪), মেহেদী হাসান (১৯), আলম মাতব্বর (৩৮), অয়ন কুন্ডু (৩০), মো. ইফাজ ফকির (২৫), জয়নবী বিবি (৫৫) এবং মোছা দৃধা (৫৫)-কে সুন্দরবন, দাকোপ এবং খুলনার বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক করে দাকোপ থানায় হস্তান্তর করা হয়।
আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য এবং গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে বুধবার খুলনার তেরোখাদা থানাধীন ধানখালী সংলগ্ন এলাকা হতে বাহিনীটির প্রধান মাসুম মৃধা (২৩) ও তার সহযোগী মো. ইফাজ ফকির (২৫)-কে আটক করে কোস্টগার্ড।
পরে বাহিনী প্রধান মাসুম মৃধার দেওয়া তথ্য অনুসারে সুন্দরবনের গাজী ফিশারিজ সংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে তিনটি দেশীয় পাইপগান, আট রাউন্ড তাজা কার্তুজ, একটি চাইনিজ কুড়াল, দুটি দেশীয় কুড়াল, একটি দা, একটি স্টিল পাইপ ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও জিম্মি পর্যটকদের পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং একটি হাতঘড়ি উদ্ধার করা হয়। আটক করা ডাকাত এবং জব্দকৃত আলামতের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।