ঢাকা: মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির তিনটি মূল নির্ধারক হলো শ্রমশক্তির প্রবৃদ্ধি, পুঁজি বিনিয়োগ এবং উৎপাদনশীলতা। নগদবিহীন অর্থনীতি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহায়ক। এর মাধ্যমে সৃষ্ট মূল্য যথাযথভাবে জাতীয় উৎপাদনে প্রতিফলিত হওয়ার ব্যবস্থা থাকা জরুরি। যদিও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে জাতিসংঘের সিস্টেম অব ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টস (এসএনএ) ২০২৫ গ্রহণ করতে হবে। যা বাস্তবায়নে অন্তত তিন বছর সময় লাগবে।
বৃহস্পতিবার(৮ জানুয়ারি) পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআই) আয়োজিত ‘টুওয়ার্ডস এ ক্যাশলেস ইকোনমি: বাংলাদেশের জন্য একটি কৌশলগত রোডম্যাপ’ শীর্ষক স্টেকহোল্ডার কনসালটেশন কর্মশালার এসব কথা বলেন পিআরআই এর চেয়ারম্যান ড. জাইদী সাত্তার।
তিনি সভাপতির বক্তব্যে বলেন, “মানব সভ্যতার লেনদেন ব্যবস্থা এক অর্থে পূর্ণ চক্র সম্পন্ন করেছে। পণ্য বিনিময় থেকে নগদ অর্থ এবং এখন আবার নগদবিহীন লেনদেন—এই বিবর্তন দেখায় যে আধুনিক অর্থনীতিতে নগদ ক্রমেই ঝামেলাপূর্ণ হয়ে উঠছে। এর থেকে বের হতে হবে।
কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, “ডিজিটাল পেমেন্ট, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং নিরাপদ পেমেন্ট ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ব্যাংক সক্রিয়ভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। নগদবিহীন অর্থনীতিতে উত্তরণ সফল করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে । এ জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি সরবরাহকারীদের মধ্যে শক্তিশালী সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। যাতে এই রূপান্তর সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়।
পিআরআই এর প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে বলেন, বাংলাদেশকে ক্যাশলেস অর্থনীতির দিকে এগিয়ে নিতে একটি বাস্তবসম্মত কৌশলগত রোডম্যাপ প্রণয়নের লক্ষ্যে কাজ শুরু করা দরকার। আমরা এই প্রথম পরামর্শক সভা আয়োজন করেছি। যেখানে চীন ও ভারতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া হবে।
কর্মশালার আরো উপস্থিত ছিলেন পিআরআই’র নির্বাহী পরিচালক ড. খুরশিদ আলম, পিআরআই’র গবেষণা পরিচালক ড. বজলুল এইচ. খন্দকার প্রমুখ।