সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক গৃহবধূর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে বাঁচতে নিথর দেহটি নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ক্লিনিক পরিচালকের বিরুদ্ধে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি ) বিকেল ৪টার দিকে শ্যামনগর পৌর সদরের ‘আনিকা ক্লিনিকে’ এ ঘটনা ঘটে।
মৃত সালেহা বেগম (৩০) উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের যাদবপুর গ্রামের ফারুক হোসেনের স্ত্রী। তিনি এক সন্তানের জননী ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জেরে গত শুক্রবার দুপুরে বিষপান করেন সালেহা বেগম। স্বজনরা তাকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে হাসপাতালের গেটে ওত পেতে থাকা একদল দালাল তাদের ফুসলিয়ে পাশের আনিকা ক্লিনিকে ভর্তি করায়।
মৃতের বাবা আবুল হোসেন গাজী অভিযোগ করেন, ক্লিনিক পরিচালক আনিছুর রহমান সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্মচারী ইয়াছিনকে ডেকে নিয়ে রোগীর ‘পাকস্থলী পরিষ্কার’ (ওয়াশ) করান। সারারাত সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার বিকেলে সালেহা মারা যান।
সালেহার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্লিনিকে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্লিনিকের এক কর্মচারী জানান, পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পরিচালক আনিছুর রহমান কৌশল অবলম্বন করেন। তিনি স্বজনদের জানান, রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন এবং তাকে দ্রুত আইসিইউতে নিতে হবে। এই কথা বলে তিনি দ্রুত একটি অ্যাম্বুলেন্স ডেকে মরদেহসহ সাতক্ষীরার উদ্দেশ্যে রওনা দেন এবং গা ঢাকা দেন।
এদিকে সালেহার মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহতের বোন পরিচয় দেওয়া এক নারী দাবি করেছেন, সালেহা বিষপান করেননি, শ্বাসকষ্টের কারণে তাকে ওয়াশ করা হয়েছিল। তবে কৈখালী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান শাহানুর আলম নিশ্চিত করেছেন, ওই গৃহবধূ কিটনাশক পান করেছিলেন।
স্থানীয়দের ধারণা, মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ক্লিনিক পরিচালককে বাঁচাতে একটি পক্ষ মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।
হাসপাতালের কর্মচারী ইয়াছিন বলেন, ‘ডাক্তার আনিছুর রহমান আমাকে ডেকে নিয়েছিলেন। ওয়াশের সময় ধানের পোকা মারার বিষের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছিল।’
ঘটনার পর থেকে আনিকা ক্লিনিকের পরিচালক আনিছুর রহমানকে একাধিকবার ফোন ও খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. খালেদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হয়ে থাকলে অবশ্যই ইউডি মামলা হবে। ময়নাতদন্ত ছাড়া মরদেহ দাফন করতে দেওয়া হবে না বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন।