নোবেল শান্তি পুরস্কার যিনি বা যে সংস্থা পান, পুরস্কারটি সবসময় তার বা সংস্থাটির নামেই যুক্ত থাকে। তবে সেই পুরস্কারের মেডেল চাইলে অন্য কাউকে দেওয়া, দান করা বা বিক্রি করা যায়।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি তাদের দেওয়া এক বিবৃবিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার পাওয়া ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাডো বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ট্রাম্পকে তার মেডেলটি প্রদান করেন। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প মেডেলটি নিজের কাছেই রাখবেন বলে ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। মাচাডোর পুরস্কারের অংশ হিসেবে একটি ডিপ্লোমা এবং ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৪ কোটি ৫৭ লাখ) অর্থও রয়েছে।
নোবেল কমিটি তাদের বিবৃতিতে জানায়, ‘মেডেল, ডিপ্লোমা বা পুরস্কারের অর্থ নিয়ে যাই ঘটুক না কেন, ইতিহাসে মূল বিজয়ী হিসেবেই সেই ব্যক্তি বা সংস্থার নাম লিপিবদ্ধ থাকে। নোবেল ফাউন্ডেশনের বিধিতে বিজয়ী মেডেল, ডিপ্লোমা বা পুরস্কারের অর্থ কীভাবে ব্যবহার করবেন সে বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। অর্থাৎ বিজয়ী এসব সামগ্রী নিজের কাছে রাখতে, দান করতে, বিক্রি করতে বা অনুদান দিতে স্বাধীন। পুরস্কারের আসল সম্মান ও স্বীকৃতি নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি যে ব্যক্তি বা সংস্থাকে বিজয়ী হিসেবে মনোনীত করে, তাদের সঙ্গেই অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত থাকে।’
বিবৃতিতে ট্রাম্প ও মাচাডোর নাম সরাসরি উল্লেখ না করে কমিটি জানায়, পুরস্কার ঘোষণার পর কোনো বিজয়ীর বক্তব্য, সিদ্ধান্ত বা কর্মকাণ্ড নিয়ে তারা মন্তব্য করে না।
ইতিহাসে এটি প্রথম ঘটনা নয়। ১৯৪৩ সালে সাহিত্যে নোবেলজয়ী নুট হামসুন তার মেডেল নাৎসি প্রচারমন্ত্রী জোসেফ গোয়েবলসকে দিয়েছিলেন। ২০২২ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ী দিমিত্রি মুরাতভ ইউক্রেনীয় শরণার্থী শিশুদের সহায়তায় ইউনিসেফের জন্য তহবিল সংগ্রহে তার মেডেল ১০ কোটি ডলারে বিক্রি করেন। আর ২০২৪ সালে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী ২০০১ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের মেডেল ও ডিপ্লোমা জেনেভায় জাতিসংঘের দফতরে দান করেন।