কুষ্টিয়া: শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সদ্যপ্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছোটো ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর নাম বিকৃতের অভিযোগে মুফতি আমির হামজার একটি ভিডিও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে আজ সকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থী মুফতি আমির হামজা নিজস্ব ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন।
ভিডিওটি তে তিনি বলেন, আমি হামজা কুষ্টিয়ায় ২০২৩ অথবা ২১ সালের দিকে চট্টগ্রাম এলাকায় একটি মাহফিলে নামের সৌন্দর্য বোঝাতে গিয়ে শহিদ জিয়াউর রহমানের ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর নামে যে কো কো শব্দটা আছে, এই শব্দটাকে বিকৃত করলে বা মুরুব্বি মানুষ যাদের দাঁত নেই তারা যদি এরকম নাম ধরে ডাকাডাকি করে তাদের অনেককে আমি কু কু এরকম ডাকতে শুনেছি। সেই উদাহরণটা টানতে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে আসলে চলে আসে এক-দুই ঘণ্টা কথা বলতে গিয়ে।
ভিডিওবার্তায় তিনি আরও বলেন, ওই সময়ই তারপরের দিন এটা আমি এটা সংশোধন করে নিয়েছি। ভুল স্বীকার করে। ভুল হলেই মানুষ স্বীকার করবে এটার মধ্যে কোন লজ্জা নেই অপমান নেই। ভুল হলে আমি স্বীকার করি। মানুষ তো ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। এরপর আবার কিছুদিন পরে যখন এ নিয়ে কথা উঠেছিল। আমি আবার লাইভে এসে বলেছিলাম বিষয়টা আসলে অনাকাঙ্ক্ষিত। আমার ভুলের জন্য আমি ক্ষমা চেয়েছি। সংশোধন করে নিয়েছি। আশা করছি আল্লাহ আমাকে মাফ করবেন।
কিন্তু এটাকে এত বছর পর রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য মানুষ ভিডিওগুলো কাটছাঁট করে। এক ঘণ্টা আগে কি বলেছি আধা ঘণ্টা পরে কে বলেছি এগুলো নেই। ৮ সেকেন্ড ১৫ সেকেন্ড ভিডিও সামনে নিয়ে এসে যারা জাতির সামনে আমাকে চরিতার্থ করার চেষ্টায় আছে তাদেরও তো কত ভুল হয় তাদের রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে কথা বলতে গেলে।
অন্যদিকে এই ঘটনায় কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিনের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের প্রার্থী জনাব মুফতি আমির হামজা সাহেবের একটি ভিডিও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তার বক্তব্যে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সদ্যপ্রয়াত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছোটো ছেলে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর নাম বিকৃত করে একটা ইতর প্রাণীর সাথে তুলনা করা হয়েছে, যেটা আমাদেরকে ব্যথিত ও সংক্ষুব্ধ করেছে। এরূপ অশালীন, কাণ্ডজ্ঞানহীন ভাষার ব্যবহার একজন ইসলামি বক্তার কাছ থেকে কোনোভাবে প্রত্যাশা করা যায় না।’