ঢাকা: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদী হত্যার এক মাস হলো। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে হাদীকে গুলি করে আদাবর থানার ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বসুন্ধরায় এভারকেয়ার হাসপাতালে কয়েকদিন চিকিৎসার পর তাকে ১৪ ডিসেম্বর হাদীকে এয়ার এম্বুলেন্সে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। ১৮ ডিসেম্বর সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন ওসমান হাদী।
ওসমান হাদীর মরদেহ ১৯ ডিসেম্বর দেশে আসে। একদিন পর ২০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ওই সময়ের স্বরণকালের জানাজা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গনে জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে হাদীকে সমাহিত করা হয়।
এরপর থেকেই হাদীর অনুসারীরা হত্যার বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নামে। ধারাবাহিক কর্মসূচী দেয় ইনকিলাব মঞ্চ। সবশেষ সাত দিনের কঠোর আল্টিমেটামের বিপরীতে ডিএমপি গত ৬ জানুয়ারি ফয়সাল মাসুদসহ ১৭ জনের নামে আদালতে চার্জশিট দেয়। তবে গত ১৫ জানুয়ারি আদালতে শুনানি হয়। শুনানির আগে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে মামলার বাদী আব্দুল্লাহ আল জাবের চার্জশিট অপুর্নাঙ্গ মর্মে আবেদন করেন।
এদিন বাদীপক্ষে আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল নারাজি আবেদনের শুনানি করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, চার্জশিটে মামলার মূল রহস্য উদঘাটিত হয়নি।
আইনজীবী বলেন, ঘটনার পর মূল আসামিদের সেফ এক্সিট (নিরাপদ প্রস্থান) দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল আসামিদের কেউ গ্রেফতার হয়নি। দায়সারাভাবে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, হাদি সবসময় ইনসাফ চেয়েছেন।
আমরা চাই হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল অপরাধীদের গ্রেফতার করা হোক। আর নিরপরাধ কেউ থাকলে সে যেন সাজা না পায়। তাই ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন, পেছনে কারা জড়িত তাদের বের করতে মামলাটি পুনরায় তদন্ত হওয়া দরকার। শুনানি শেষে আদালত আদেশের বিষয়টি অপেক্ষমান রেখেছেন।
এদিকে হাদী হত্যার বিচারের দাবিতে তার সহকর্মীরা ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে রাজপথে এখনো আন্দোলন করে আসছে। তাদের দাবি, মুল আসামিদের গ্রেফতার ও হত্যার পেছনের কুশীলবদের মামলায় অন্তর্ভূক্ত করে চার্জশিট এবং দ্রুত বিচারের কাজ শেষ করতে হবে।
হাদী হত্যার পর দেশে বিদেশে ব্যাপক আলোচনা হয়। এই হত্যার বিচারের দাবিতে সরোব হয়ে ওঠে সব শ্রেণি পেশার মানুষ। তার নামে গান রচিত হয়। বিদেশি পত্রিকাগুলোতে বড় করে সংবাদ প্রকাশ করে।