পিরোজপুর: পিরোজপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) দুই ইন্সট্রাক্টরের বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে বাইপাসে অবস্থিত টিটিসি কার্যালয়ের সামনে স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
ইন্সট্রাক্টররা হলেন- টিটিসির সিভিল বিভাগের ইন্সট্রাক্টর কামরুল হাসান ও ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের ইন্সট্রাক্টর কবির আলম।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী বক্তারা অভিযোগ করেন, বিদেশগামী কর্মীদের জন্য টিটিসিতে পরিচালিত তিন দিনব্যাপী প্রি-ডিপার্চার ট্রেনিং এবং সৌদি আরবগামী কর্মীদের তাকামল অ্যাসেসমেন্ট পরীক্ষায় অর্থের বিনিময়ে পাস করানোর একটি অবৈধ বাণিজ্য দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সংশ্লিষ্ট ইন্সট্রাক্টর ও তাদের সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।
বক্তারা দাবি করেন, এই অবৈধ প্রক্রিয়ায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন হয়েছে। বিশেষ করে অসহায় ও দরিদ্র বিদেশগামী শ্রমিকদের দুর্বলতাকে পুঁজি করে এ চক্রটি নিয়মিত অর্থ আদায় করে আসছে।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে একদিকে শ্রমিকরা আর্থিকভাবে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
মানববন্ধন থেকে অভিযুক্ত দুই ইন্সট্রাক্টরের বিরুদ্ধে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে পুরো টিটিসির কার্যক্রম খতিয়ে দেখে দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন বক্তারা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত দুই ইন্সট্রাক্টরের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মো. সাইফুল আলম, মো. রিয়াজ রায়হান, মো. উজ্জ্বলসহ স্থানীয় অন্যান্য সচেতন নাগরিকরা।